যোগাযোগ স্থাপনের অন্য সব কাজের মতোই সাক্ষাৎকারও একটি দ্বিমুখী প্রক্রিয়া। সাক্ষাৎকারের ফলাফল কেমন হবে, তা সাক্ষাৎকারদাতার ওপরে যতটা নির্ভর করে, ঠিক ততটাই নির্ভর করে আপনার ওপর। ভালো সাক্ষাৎকারে একটি আলাপচারিতার আবেশ থাকে। একই সাথে এটি আপনার কাক্সিক্ষত উত্তরগুলো বের করে আনার একটি পরিকল্পিত কৌশলেরও অংশ।

সাক্ষাৎকার নেয়ার আগে, আপনাকে খবরের বিষয়বস্তু সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ জানতে হবে এবং তার সঙ্গে সূত্রের যোগসূত্র বুঝে নিতে হবে। এটি করার জন্য আপনাকে সেসব লেখা ও নথিপত্র ঘেঁটে দেখতে হবে, যেখানে আপনার অনুসন্ধানের প্রেক্ষাপট ও পূর্ব-পরম্পরা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। বিপরীতে, এটি আপনাকে উপযুক্ত প্রশ্নমালা তৈরি ও সেগুলোর বিশদ ব্যাখ্যা পেতে আপনাকে সাহায্য করবে। বিভিন্ন ধরনের মানুষের সাক্ষাৎকার নেওয়ার পরিকল্পনা করুন। তা না হলে, আপনি গুটিকয়েক মানুষ বা সূত্রের ওপরে নির্ভরশীল হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন, যারা হয়তো ঘটনা বা ঘটনাস্থল থেকে অনেক দূরের চরিত্র। একটা উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। আপনি এমন কোনো স্থানে গেলেন যেখানে খামারকর্মী, শিল্পশ্রমিক বা এ জাতীয় পেশার লোকজন কাজ করেন। সেখানে সহজেই দেখতে পাবেন, কর্মীরা নিয়োগদাতার হাতে কতটা ভুক্তভোগী। কিন্তু আপনি যখন কোনো বড় শহরের কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের (এনজিও) কার্যালয়ে যাবেন, তখন এটা সাধারণ চোখে ধরা পড়বে না। তাই আপনি সরেজমিনে যা দেখছেন, আর কাগজে কলমে লেখা নীতিমালা বা বাজেটে ওই বিষয়ে যা পাচ্ছেন, তার মধ্যে তুলনা করুন ও মিল-অমিল যাচাই করুন। অন্যান্য জায়গা বা বিভিন্ন সময়ে একই ধরনের ঘটনায় যা ঘটেছে, তার সঙ্গে আপনার অনুসন্ধানের তুলনা করে নিন। অগ্রিম এই প্রস্তুতি নিয়ে রাখলে আপনি প্রাসঙ্গিক সব প্রশ্ন করতে সক্ষম হবেন এবং আপনার প্রতিবেদনের জন্য দরকারী তথ্যগুলো বের করে আনতে পারবেন।