আপনার প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে, যার বলার মতো কাহিনী আছে, এরকম ব্যাক্তির অফিসে আপনি হঠাৎ করে ঢুকে গিয়ে (যদিও মানুষ অনেক সময় এটাকে ভালোভাবে নেয় না) অথবা ফোন করে সাক্ষাৎকার নিতে পারেন। আপনি হয়তো এমন একটি সূত্রের সঙ্গে কথা বলতে চাইছেন, যার সঙ্গে দেখা করার পথে বারবার বাধা আসছে। এমন হলে, আপনি সেই ব্যক্তির গতিবিধির ওপর নজর রাখতে পারেন। তাঁর অফিসের বিশ্রাম কক্ষ বা লবি, অথবা উন্মুক্ত কোনো অনুষ্ঠান যেখানে সেই ব্যক্তির উপস্থিত হওয়ার কথা আছে – সেসব জায়গায় গিয়ে সুযোগের অপেক্ষায় থাকতে পারেন। অবশ্য, এই কৌশলে হিতে বিপরীতও হতে পারে। একটা বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ: এমন কোনো আচরণ করবেন না, যাতে মনে হয় আপনি তাদের জন্য ওঁৎ পেতে আছেন। আপনাকে অত্যন্ত ভদ্রতার সঙ্গে নিজের পরিচয় দিতে হবে। জানাতে হবে যে তাঁদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেলে আপনি খুশি হবেন। সন্দেহ তৈরির আশঙ্কা থাকলে আপনি একজন মধ্যস্থতাকারীর কথা ভাবতে পারেন। ওই ব্যক্তির চেনা-জানা গন্ডির মধ্যে সেই মধ্যস্থতাকারী হবেন একজন ‘দ্বার-উন্মোচক’। কোনো কোম্পানি, সংস্থা, সরকারি প্রতিষ্ঠান বা সহযোগী কোনো প্রতিষ্ঠানের কারও সাক্ষাৎকারের ক্ষেত্রে আপনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির প্রেস অফিসের মাধ্যমে অনুরোধ করতে হবে। সকল ক্ষেত্রেই আপনাকে নম্র আচরণ করতে হবে।

একটা কৌশল কাজে দিতে পারে। কাউকে ফোন করা বা সরাসরি সাক্ষাৎ করার আগে খুবই সংক্ষিপ্ত একটা মহড়া করে নিন। তাতে থাকবে আপনার সাক্ষাৎকারের প্রধান প্রধান পয়েন্ট সংবলিত একটা সূচনা বক্তব্য। এই পর্যায়ে আপনাকে একটা বিষয় ভাবতে হবে। সেটা হচ্ছে, সাক্ষাৎকারদাতার কাছে আপনি কখন প্রকাশ করবেন যে আপনি একজন সাংবাদিক। কোন পরিস্থিতিতে আপনি আপনার পেশাগত পরিচয় গোপন করে অন্য কোনো পরিচয় দেবেন (যেমন, বিক্রয় প্রতিনিধি)? কীভাবে আপনি সেই ‘ভূমিকা’কে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবেন?

আপনি হয়তো কারো সঙ্গে প্রথমবারের মত অনানুষ্ঠানিকভাবে দেখা করলেন, যাঁর সঙ্গে ভবিষ্যতেও কথা বলতে হতে পারে। তাই, তাঁকে কীভাবে একটা সূত্রে পরিণত করা যাবে, সেই চিন্তা নিয়ে কাজ করুন। পরিকল্পনার ছক এঁেক নিন। আলাপে যেসব ইস্যু আসতে পারে, তা ঠিক করে নিন। সেই ব্যক্তির আগ্রহের বিষয়গুলো জেনে নিতে পারেন। তাঁর কর্মস্থলে যেসব ইস্যু আছে, সেগুলো সম্পর্কে তাঁকে আলোচনা করতে কীভাবে উৎসাহিত করা যাবে? একজন পদস্থ সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে আপনার নিজেকে উপস্থাপনা যেমন হবে, তার চেয়ে পানশালার একজন কর্মীর সঙ্গে আচরণ কী আলাদা হবে? হলে সেটা কীভাবে? যেসব ব্যক্তি দৃশ্যত রুটিন কাজ করেন, কখনোই তাঁদের বুদ্ধিমত্তাকে খাটো করে দেখবেন না! এর জন্যে কতটা সময় লাগতে পারে সে বিষয়ে স্পষ্ট ও বাস্তববাদী হোন। সরকারের একজন মন্ত্রীর ক্ষেত্রে ১৫ মিনিট হবে খুবই লম্বা সময়। কিন্তু, মানসিক আঘাত পেয়েছেন, এমন একজন ব্যক্তির কাছ থেকে খোলামেলা উত্তর পেতে হয়তো পুরো একটা দিনই লেগে যেতে পারে।

কোনো সূত্র আপনাকে আগেভাগেই প্রশ্নমালা পাঠাতে বললে, আপনাকে হয়তো তাই করতে হবে। কিন্তু সাধারণত একে ভালো চর্চা বলে মনে করা হয় না। সাক্ষাৎকারের বিষয়বস্তুর ওপর একটা মোটামুটি রূপরেখা পাঠালে হয় কি না, সেই চেষ্টাও করে দেখতে পারেন। বিশেষজ্ঞ ব্যাক্তি ছাড়া অন্যদের কাছে আগেভাগে প্রশ্নমালা পাঠালে তা একটা বাগাড়ম্বরপূর্ণ, কৃত্রিম সাক্ষাৎকারে পরিণত হতে পারে। কখনো কখনো তথ্য জোগাড় করার জন্য বিশেষজ্ঞদের সময় দরকার হয়। তাই জানিয়ে রাখুন, ফলো-আপের জন্য তার কাছে আবারও আসতে হতে পারে।

আবার এমনও হতে পারে, কোনো সূত্র আপনার সঙ্গে দেখা-ই করতে চান না, শুধু একটা লিখিত বিবৃতি দিতে চান। এ ক্ষেত্রে আপনাকে সম্পাদকের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে হবে এবং প্রতিবেদনে তা ব্যবহারের উপযুক্ত উপায় কী হবে, তা ঠিক করে নিতে হবে। এক্ষেত্রে আদর্শ ব্যাখ্যাটি হবে এরকম: ‘আমরা সাক্ষাৎকারের জন্য আহ্বান জানিয়েছিলাম। কিন্তু কাউকেই পাওয়া যায়নি। অবশ্য, আমাদের কাছে ফ্যাক্সের মাধ্যমে একটা বিবৃতি পাঠানো হয়েছে।’ এরপর বিবৃতিটি পূর্ণাঙ্গভাবে তুলে ধরতে হবে।

কোনো সূত্র কথা বলতে রাজি হলে, আপনার প্রথম কাজ হবে উপযুক্ত জায়গা বাছাই করা। নিজ বাড়ি বা অফিসে সাক্ষাৎকারদাতা কিছুটা মনস্তাত্ত্বিক সুবিধা পেয়ে থাকেন। নিজের এলাকা বলেই, তিনি একটু সহজ হতে পারেন। তবে তা আপনাকেও তাঁর প্রেক্ষাপট দেখার সুযোগ দেবে। আপনার অফিস আপনাকে মনস্তাত্ত্বিক সুবিধা দেবে, কিন্তু অচেনা মানুষজনের মধ্যে তিনি নিজেকে অনিরাপদ ভাবতে পারেন। সাক্ষাৎকারের ধরন সম্পর্কে চিন্তা করে নিন। প্রকাশ্য নাকি গোপন – ভেবে নিন কোন ধরনের জায়গায় কথা বললে বেশি সফলতা আসবে। পারিপার্শ্বিক শব্দদূষণের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে, যা হয়তো কথোপকথন রেকর্ডে সমস্যা তৈরি করতে পারে।

আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকারের ক্ষেত্রে, ফোনকল, ইমেইল বা ফ্যাক্সের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করে নিন, যাতে সাক্ষাৎকারদাতা বলতে না পারেন যে তিনি ‘ভুলেই গিয়েছিলেন’। ব্যক্তিগত সহকারি কবে সেই ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করবেন – তার জন্য অপেক্ষা করবেন না। সাড়া দেওয়ার একটি যৌক্তিক সময় বেঁধে দিন। পরে আবার ফোন করুন। অটল থাকুন। তবে তা যেন উপদ্রব না হয়ে যায়।