আপনার সাক্ষাৎকারের কাঠামো এমনভাবে সাজিয়ে নিন, যাতে সেটা যদি সফল নাও হয়, তবু আপনি যেন এমন কিছু তথ্য উদ্ধার করতে পাবেন যা আপনার কাজে লাগবে।

  1. ১. ওয়ার্ম আপ (পরস্পরের মধ্যে একটা স্বাভাবিক সম্পর্ক তৈরি করা)
  2. ২. মৌলিক তথ্য, যাতে অন্তর্ভূক্ত থাকবে জানা বিষয়গুলো নিশ্চিত করা
  3. ৩. ‘নমনীয়’ প্রশ্নমালা
  4. ৪. ‘শক্ত’ প্রশ্নমালা

খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে সোর্সকে কথা বলায় সাচ্ছন্দ্য করতে কতটা সময় লাগবে, সে বিষয়ে একটা আন্দাজ করে নিন। তবে, সাক্ষাৎকারের প্রাথমিক ধাপগুলো , সাংস্কৃতিক রীতিনীতি মেনে সৌজন্য প্রদর্শনসাপেক্ষে, সংক্ষিপ্ত ও হালকা রাখার চেষ্টা করুন। এরপর যত দ্রুত সম্ভব মূল বিষয়ে প্রবেশের চেষ্টা করুন। আপনার সাক্ষাৎকারে একটা যৌক্তিক কাঠামো নিশ্চিত করুন। প্রথমে সেসব প্রশ্ন করুন যাতে আপনার দরকারি তথ্যগুলো বেরিয়ে আসে। তুলনামূলক চ্যালেঞ্জিং প্রশ্নগুলো পরে করুন। আপনার প্রশ্নগুলো অবশ্যই সহজে বোধগম্য, পরিস্কার ও যথাযথ হতে হবে। একটা দীর্ঘ ও জটিল এলোমেলো প্রশ্নের চেয়ে পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত ছোট ছোট কয়েকটি প্রশ্ন অনেক ভালো। কারণ, দীর্ঘ প্রশ্নে আপনার সূত্রটি খেই হারিয়ে ফেলতে পারেন। এসব প্রশ্ন আগেভাগেই আপনার মাথায় সাজিয়ে নিন।

কিছু পরামর্শ:

  • > একই প্রশ্নে অনেক উত্তর চাওয়ার প্রবণতা এড়িয়ে চলুন: ‘মাননীয় মন্ত্রী, আপনি কি টেন্ডারে অনিয়মের বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন, আপনি কী এই প্রক্রিয়ার তত্বাবধানে ছিলেন এবং কেন তেমনটি করলেন এবং চুক্তিটি করলেন?’ এমন প্রশ্ন করলে আপনার সূত্রটি শুধু প্রশ্নের সেই অংশটিরই উত্তর দেবেন, যেটি তিনি আলোচনা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন।
  • > দ্বৈত নেতিবাচক প্রশ্ন এড়িয়ে চলুন। কারণ এমন বিষয় অযাচিত সংশয় সৃষ্টি করে। উদাহরণস্বরূপ, ‘এটা কী সত্য নয় যে আপনি ওই্ অর্থ ফেরত দেননি?’ এমন প্রশ্নে সেই অর্থ সম্পর্কে দুটি উত্তরের একটা আসতে পারে। অথবা সেই বিবৃতির কেবলই সত্যতা সম্পর্কে উত্তর আসতে পারে। ‘এটা কী সত্য যে আপনি ওই্ অর্থ ফেরত দেননি?’ এটা হবে অধিকতর সহজ ও স্পষ্ট; ‘আপনি কী ওই্ অর্থ ফেরত দিয়েছেন?’ এটা হবে আরও ভালো প্রশ্ন।
  • > যেগুলো শুধু নিশ্চিত করা প্রয়োজন তেমন প্রশ্নগুলো যুক্ত করুন। এগুলো এমন প্রশ্ন যার উত্তর আপনি জানেন। এটা মৌলিক বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে। আর এর মাধ্যমে আপনি বুঝতে পারবেন, আপনার সূত্র সঠিক তথ্য দিচ্ছে কিনা। সাক্ষাৎকারদাতা যদি প্রশ্নের সাদামাটা ভাব দেখে বিভ্রান্ত হন, তবুও আপনি কিছু মনে করবেন না। যদিও দরকার হয় না, তবু আপনি বিষয়টির ব্যাখ্যায় বলতে পারেন: ‘পাঠক এই উত্তরটি আপনার মুখ থেকে শুনতে চান, আমার মুখ থেকে নয়।’ বদ্ধ প্রশ্ন (অন্য ভাষায়, যার উত্তর আসে হ্যাঁ, না বা এমন এক শব্দে)-এর সঙ্গে ফারাকের বিষয়টি মাথায় রাখুন।
  • > উন্মুক্ত প্রশ্ন করুন। এই প্রশ্নগুলোতে আপনার সোর্স তাদের ধারণা সম্পর্কে আরো খোলামেলা কথা বলতে আগ্রহী হবে। উন্মুক্ত প্রশ্নগুলো আপনার সামনে একটি ভাষ্য হাজির করে। অন্যদিকে বদ্ধ প্রশ্ন আপনার প্রতিবেদনের নির্ভুল তথ্য হাজির করে। এই দুইয়ের মিশেল ব্যবহার করুন।