সাংবাদিকেরা প্রায়ই বাজে আচরণের জন্য সমালোচিত হন। বলা হয়ে থাকে – তাঁরা অতি উৎসাহী; অনেক সময় ঘটনার উত্তেজনায় ঘি ঢালেন, মানুষের সুনাম নষ্ট করেন; বিরোধীদের পক্ষে কাজ করেন; কঠোর উদ্যমী লোকজনের কাজে ব্যাঘাত ঘটান; অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতায় ঘাটতি থাকে; এ ধরনের অনেক অভিযোগ তাদের নামে। মাঝেমধ্যে, অভিযোগে সত্যতাও থাকে। এ ধরনের নেতিবাচক ধারণা কাটাতে শালীন ও নৈতিক আচরণ করতে হবে। আপনার কখনোই রূঢ় হওয়া চলবে না; এমন কিছু দাবি করবেন না, যা অযৌক্তিক। আপনি যদি এমন ভাব দেখাতে থাকেন যাতে মনে হয় সব তথ্যের ওপর শুধু আপনারই অধিকার; তাহলে সোর্স ও সমাজের অন্যান্য জায়গা থেকে আপনার প্রতি বৈরিতা বাড়বে।

বেশির ভাগ মানুষই বিশ্বাস করেন যে তাঁরা ভালো ও সৎ। সুতরাং, সুত্রের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে আপনি তাকেই কেন ভিত্তি হিসাবে গ্রহণ করবেন না? কয়েকটি উপায়ে প্রশ্ন সাজানো গেলে, তা প্রায়ই ভালো ফল বয়ে আনবে। যেমন, ‘এটা কীভাবে ঘটে, তা জানতে পারলে আমি সত্যিই খুশি হব’, অথবা ‘কমিউনিটির সুবিধার জন্যই দয়া করে এই বিষয়টা যদি ব্যাখ্যা করতেন’; এই ধরনের কথাবার্তায় প্রায়ই ইতিবাচক ফলাফল দেখা যায়। তথ্যটা যে জনস্বার্থে প্রকাশ হওয়া জরুরি, তা বোঝাতে পারলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তথ্যদাতারা সাংবাদিকদের সহযোগিতা করেন।

এটা শুধুই একটা কৌশলের বিষয় নয়; ‘রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ’ বলে একটা বাহারি তকমা আছে সাংবাদিকদের, কিন্তু এটাও সত্য যে সরকারি কর্মকর্তা বা জনসেবকদের কর্মকান্ড তদারকরি জন্য কোনো সাংবাদিকই গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয়ে আসেন না। সাংবাদিকেরা হচ্ছেন নাগরিক সমাজের অংশ। সেই বিবেচনায় রাষ্ট্র তার নাগরিকদের কল্যাণে কাজ করছে কিনা তা নিশ্চিত করার নাগরিক দায় তাঁরা পালন করেন। এই অবস্থায়, সাংবাদিকদের রয়েছে সংবাদপত্র বা গণমাধ্যমের মতো গণযোগাযোগের প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রবেশাধিকারের সুবিধা। সাংবাদিকেরা অনেক সময় বৈরি প্রতিষ্ঠান বা দূর্নীতিবাজ রাজনীতিকদের মুখোশ উন্মোচন করার জন্য গোপন রেকর্ডার ব্যবহারের মতো পদ্ধতির সাহায্য নেন, যাতে এমনকি আইন লঙ্ঘনও হতে পারে। সেকারণেই সন্তোষজনক, আন্তরিকতাপূর্ণ ও স্বচ্ছ (অন্তত যতটা সম্ভব স্বচ্ছ) পদ্ধতি ব্যবহার সাংবাদিকদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

একজন সাংবাদিক হিসেবে আপনি যেন আপনার দায়িত্বের সীমা লংঘন না করে ফেলেন, সে জন্য সব সময় এই প্রশ্নগুলো নিজেকে করবেন: যাকে নিয়ে অনুসন্ধান করছি, সেই ব্যক্তি আমি হলে বিষয়টাকে কীভাবে দেখতাম? আমি সাংবাদিকদের ভূমিকাকে কীভাবে দেখি? আমার নিজের জবাবদিহিতা কতটা? আমি যে অন্যদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করছি, এমন প্রলোভন থাকলে আমি কী আত্মসমর্পণ করতাম? কী আমাকে নিবৃত্ত করতো? আমার জবাবদিহি (‘চেক অ্যান্ড ব্যাল্যান্স’) কোথায়?