এবার আপনাকে এই প্রাথমিক ভাবনাগুলো থেকে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রশ্নের দিকে যেতে হবে, যেগুলোর উত্তর আপনার প্রতিবেদনে থাকবে। এটি আপনাকে সাহায্য করবে:

  • ! প্রতিবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাসঙ্গিক তথ্যপ্রমাণগুলো কী হবে, সেই সিদ্ধান্ত নিতে।
  • ! উদ্দেশ্য ও সীমানা নির্ধারণ করে দিয়ে আপনার কাজটাকে আরো সহজ করতে।
  • ! প্রতিবেদনের এই ধারণা অন্যদের কাছে গ্রহণযোগ্য করতে ও তুলে ধরতে।
  • ! প্রতিবেদনের জন্য দরকারি সময়, সরঞ্জাম ও সম্পদ (খরচ) এর বাজেট তৈরিতে।
  • ! চূড়ান্ত প্রতিবেদন লেখার ভিত্তি ও গাঁথুনি নির্ধারণে।

একটি ধারণা থেকে একাধিক অনুমান দাঁড় করানো যায়, বা চূড়ান্ত প্রতিবেদনের দিকনির্দেশনা তৈরি করা যায়। যেমন: আপনার ধারণা হলো পানি সরবরাহ সেবা বেসরকারিকরণের পর দরিদ্রদের মধ্যে পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। এখান থেকে দুটি অনুমান করতে পারেন:

(ক) পানি সরবরাহব্যবস্থা বেসরকারিকরণের ফলে দাম বেড়ে যাওয়ায় গরিবরা তা কিনতে পারে না; তাই তারা বিনে পয়সায় অস্বাস্থ্যকর উৎস থেকে পানি সংগ্রহ করছে, যার পরিণতি হচ্ছে মহামারী।

(খ) বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটি খরচ কমাতে পানি বিশ্ুদ্ধকরণ ও সরবরাহে মাননিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব না দেওয়ায় পানির বিশুদ্ধতা কমে যাচ্ছে, যে কারণে রোগ ছড়িয়ে পড়েছে।

কিন্তু আপনাকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করতে হবে – এই অনুমানের ভিত্তি কী, এবং তা কতটা ন্যায্য? দুই ক্ষেত্রেই রোগের উৎস বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়েছে কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া শুধু অনুমানের ভিত্তিতে। অনুমান ‘ক’-তে বিনে পয়সার অন্যান্য উৎস থেকে সংগৃহীত পানিকে দায়ী করা হয়েছে; এবং অনুমান ‘খ’-তে পানির প্লান্টগুলো বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করার ব্যাপারে উদাসীনতাকেই দায়ী বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে। সম্ভাব্য এই দুই অনুমান-ই আপনাকে খতিয়ে দেখতে হবে, কারণ এই দুটোরই ভিত্তি অনেক গভীরে – রোগের শুরু কোত্থেকে?

আরও ভালো অনুমান হতে পারে:

(গ) সম্প্রতি ‘এক্স’ পৌর এলাকায় পানিবাহিত রোগ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার জন্য দায়ী – হয় বেসরকারি পানি সরবরাহকারীরা কিংবা বিনে পয়সার উৎস থেকে পাওয়া পানি।

এই পরিমার্জিত উপসংহার আপনাকে প্রতিবেদনের রুপরেখায় নিয়ে যাবে এবং সুস্পষ্ট ও ভারসাম্যপূর্ণ অনুসন্ধানের পথ দেখাবে।

(ঘ) ‘এক্স’ পৌর এলাকায় সম্প্রতি একটি পানিবাহিত রোগ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে পানি সরবরাহব্যবস্থা বেসরকারিকরণ করা হয়েছে। এই প্রতিবেদনে খোঁজা হবে মহামারী কীভাবে শুরু হলো। এর কারণে কি বেসরকারি কোম্পানির পানির দাম মানুষের সামর্থ্যের বাইরে বলে তারা বিনে পয়সায় কূপ বা উন্মুক্ত জলাশয় থেকে দূষিত পানি সংগ্রহ করছে? নাকি, খরচ কমাতে গিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটি পানি বিশুদ্ধকরণের মান কমিয়ে দিয়েছে – এই কারণে? আমরা এই মহামারির উৎস জানতে বিজ্ঞানীদের সাথে কথা বলব। অভাবী মানুষগুলো বিনে পয়সার পানির জন্য প্রতিদিন কোন উৎসগুলোতে যায় তা অনুসন্ধান করব। এবং স্বাধীন বিজ্ঞানী বা বিশেষজ্ঞকে নিয়ে পরিশোধনকেন্দ্রের নিরাপত্তার মান যাচাই করব। এভাবে যখন এই মহামারি ছড়িয়ে পড়ার কারণ শনাক্ত করা যাবে, তখন তা ঠেকাতে কী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়, তাও খতিয়ে দেখা যাবে।

প্রতিবেদনের জন্য আপনি যখন সুস্পষ্টভাবে একটি ব্যাখ্যা বা অনুমান দাঁড় করাতে পারবেন তখন আপনার এই বিষয়গুলোসহ গবেষণার পরিকল্পনা করতে হবে:

  • > তথ্যের জন্য সূত্র বের করা,
  • > কী ধরণের প্রমাণ প্রয়োজন তা চিহ্নিত করা,
  • > কোন পদ্ধতিতে কাজ করবেন তা নির্ধারণ,
  • > টাইমলাইন তৈরি এবং
  • > বাজেট প্রণয়ন

এই ধাপগুলোর পরিকল্পনা কীভাবে হবে তার একটা সাধারণ ধারণা এই অধ্যায়ের পরবর্তী অংশে তুলে ধরা হয়েছে। আর, পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে তুলে ধরা হবে, এই ধাপগুলো কার্যকর করার বিস্তারিত বর্ণনা।

এবং শেষপর্যায়ে, প্রতিবেদনটি সম্পর্কে সংক্ষেপে ধারণা দেওয়ার জন্য আপনাকে দিতে হবে একটি আকর্ষণীয় শিরোনাম। শেষপর্যন্ত হয়তো এই শিরোনাম আপনি বদলেও দিতে পারেন। কিন্তু শুরুতে একটি শিরোনাম সামনে রেখে কাজ করলে সেটি আপনার প্রতিবেদনে মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করবে। এতেকরে আপনার জন্য প্রতিবেদনটি পিচ বা প্রস্তাব করা যেমন সহজ হবে, তেমনি গল্পটি সৃজনশীলতার সাথে কীভাবে উপস্থাপন করা যায়, সেই চিন্তাতেও সাহায্য করবে। অবশ্যই যখন প্রয়োজন পড়বে, তখন আপনি এটি এদিক-সেদিক করে নিতে পারবেন।