আপনার ‘প্রকল্প পরিকল্পনা’র জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাজেট। এই অনুসন্ধান শেষ করতে কত টাকা লাগবে, কী ধরণের সরঞ্জাম দরকার হবে?

এই বিষয়গুলি বিবেচনায় নিতে হবে:

  • >   ভ্রমণ ব্যয় — বিমান ভাড়া, গাড়ী খরচ, নিজের এবং সোর্সের থাকা-খাওয়া
  • >   পরামর্শক ফি — যেমন অনুবাদ-নকলনবিশদের সম্মানী
  • >   যোগাযোগ খরচ যেমন, ফোন ও ইন্টারনেট বিল
  • >   আর্কাইভ বা রেকর্ড খোঁজার ফি, বিভিন্ন নথির নোটারি করা ইত্যাদি

যদি দলবদ্ধভাবে কাজ করতে হয়, সদস্যদের জন্য কর্মশালা এবং মাঠপর্যায়ে ভ্রমণের খরচও বাজেটে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে।

পুরো বিশ্বজুড়েই নিউজরুমগুলো সংকুচিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সারির পত্রিকাগুলোতে একেকটি অনুসন্ধানী প্রকল্পে যে পরিমাণ বাজেট থাকে, তা দিয়ে উন্নয়নশীল কোনো দেশের একটি ছোট সংবাদপত্র পুরো বছর চলতে পারে। আপনার প্রতিষ্ঠানের রিসোর্স যদি সীমিত হয়, তাহলে সহায়তা পাওয়া যাবে এমন উৎস খুঁজে বের করার ব্যাপারে সৃজনশীল হতে হবে। এ ক্ষেত্রে একটা ভালো সূত্র হতে পারে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলো। দেখা গেল আপনি যে বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে চাচ্ছেন, ঘটনাচক্রে তা কোনো দাতা প্রতিষ্ঠানের অগ্রাধিকারের সাথে মিলে যাচ্ছে। তবে দাতারা যাতে তাদের ইচ্ছাকে চাপিয়ে দিতে না পারে, সেই বিষয়ে আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে। আরেকটি সম্ভাব্য ব্যবস্থা হতে পারে গণ-অর্থায়ন (ক্রাউডফান্ডিং), এক কথায় পাঠক-দর্শকের কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহ। সাধারণ সাংবাদিকতার প্রকল্প বা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য তহবিল সংগ্রহ বেশ জনপ্রিয়, আবার একই সঙ্গে কঠিনও।


ফেলোশিপ ও ক্রাউডফান্ডিং নিয়ে দেখতে পারেন জিআইজেএন-এর রিসোর্স:


বেশিরভাগ সাংবাদিক-ই একমত – তথ্যের জন্য সূত্র বা সোর্সকে টাকা দেওয়া ভালো নয়। কেননা, টাকার লোভে সূত্র মিথ্যা তথ্য দিতে পারে বা ঘটনা অতিরঞ্জিত করতে পারে। এর চেয়ে খারাপ যা: টাকা দিয়ে হিতে-বিপরীত হয়ে উঠবে, যখন আপনার সোর্স পিছু হটবে বা পরে যখন সে তার বক্তব্যকে অস্বীকার করবে। এ ছাড়া টাকা দেওয়ার বিষয়টি আপনার প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের নৈতিক মান এবং সাংবাদিকের অনুসন্ধানী দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে। তবে ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে, যেমন একজন সূত্র তার কাজের সময় বাদ দিয়ে আপনাকে সাক্ষাৎকার দিলে তাকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া, কিংবা যাতায়াতের খরচ বা অন্য ব্যয়ের জন্য টাকা দেওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে যে, কেন টাকা দেওয়া বা নেওয়া হচ্ছে। টাকাও দিতে হবে কম বা ‘স্বাভাবিক’ হারে। সূত্রকে মনে করিয়ে দিতে হবে যে তিনি তথ্য দিয়ে আপনাকে কিংবা আপনার প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ কোনো সুবিধা দিচ্ছেন না, বরং, ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী বা সমাজকে সহায়তা করছেন।

কোথাও প্রবেশাধিকার পাওয়ার জন্য কোনো কর্মকর্তাকে উৎকোচ দেওয়াটাও অমর্যাদাকর। কোনো কোনো সমাজে অবশ্য সাধারণ কিছু সুবিধা চাওয়ার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে (যেমন, কোনো কিছু করার জন্য তারা চা বা ঠান্ডা পানীয় পানের খরচ) কিংবা সকালে অফিস খুলে তথ্য দিতে হবে, এসব কথা বলে কিছু সুবিধা তথা অর্থ দাবি করে। এ ধরনের পরিবেশে হয়তো আপনি তাদের কিছু না দিলে কাজই করতে পারবেন না। কিন্তু এই লেনদেনগুলোর কারণে হয়তো আপনার পুরো অনুসন্ধানই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। যত অল্প টাকাই হোক না কেন, এটিকে ঘুষ হিসেবেই বিবেচনা করা হবে। একসময় তারা তাদের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ বা আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী গণমাধ্যমকে বলে দিতে পারে যে আপনি তাদের ঘুষ দিয়েছেন। এ ধরনের পরিস্থিতি সামলাতে আপনাকে বিশেষ কৌশল করতে হবে। চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলে পাঠককে যুক্তিযুক্তভাবে বোঝাতে হবে যে, কোন পরিস্থিতিতে পড়ে আপনি টাকা দিয়েছেন। শুধুই অর্থের ওপর ভিত্তি করে লেনদেনের সম্পর্ক বজায় রাখার চেয়ে সোর্সেও সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করাটা সবসময়ই ভালো পন্থা। এটি আপনি করতে পারেন আপনার কাজের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করার মাধ্যমে।