ধরা যাক, প্রাথমিক কিছু গবেষণার পর দূর্ভাগ্যজনকভাবে, আপনার গোটা অনুমানটাই বদলে গেছে। নতুন তথ্য পাওয়ার কারণে আপনার খবরের বিষয়টিকে নতুন করে সাজাতে ভয় পাবেন না। ভালো অনুসন্ধানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো নমনীয়তা। রিপোর্টিংয়ের শুরুতে যে ধারণা ছিল, তাকে আঁকড়ে থাকার চেষ্টা করবেন না এবং নতুন পাওয়া তথ্যগুলো আদি ধারণার মধ্যে জুড়ে দেওয়ার কথা ভাববেন না।

নতুন করে যে অনুমানটি তৈরি করলেন, তার পটভূমি নিশ্চিত হলে, আপনার গবেষণাকে আরও গভীরে নিতে হবে এবং অপ্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো ছেঁটে ফেলে দিতে হবে। নিজের কাজ ছেঁটে ফেলতে একটু খারাপ লাগতে পারে, কিন্তু করতেই হবে। পুরোনো নথি/নোটগুলো ফাইল করে রাখতে পারেন, যা ভবিষ্যতে কোনো প্রতিবেদনে কাজে লাগতে পারে। কর্তৃপক্ষের বা কর্মকর্তা পর্যায়ের কারো অর্থবহ মন্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করুন এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র এবং রেফারেন্সগুলো আবারও দেখে নিন। আনুমানিক বিমূর্ত বিষয়গুলোর বদলে আপনাকে এখন খুঁজতে হবে বাস্তব, সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ও রেফারেন্স। এবং এই পর্যায়েই আপনাকে বিষয়টি গভীরভাবে বোঝার চেষ্টা করতে হবে। আপনি নিশ্চয়ই কোনো মামলায় জড়িয়ে পড়তে চাইবেন না। ফলে যেটার সত্যতা নিশ্চিত হতে পারবেন না, ছেঁটে ফেলুন। আপনার নোটের সঙ্গে মেলে না বা বিপরীতমুখী তথ্যগুলো পর্যালোচনা করে দেখুন সেগুলোর ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে কিনা? পক্ষপাতদূষ্ট সূত্র বিষয়টির কী ব্যাখ্যা দিচ্ছেন? সব ক্ষেত্রে সবার মন্তব্য রেকর্ড রাখুন। তথ্য নিশ্চিত করুন, যাচাই করুন এবং আবারও যাচাই করুন।

কোন ক্ষেত্রে কী পরিবর্তন এল তা সংশ্লিষ্ট সম্পাদককে জানিয়ে রাখুন, যাতে তিনি প্রয়োজনে পুনপরিকল্পনা করতে পারেন, পাতায় পরিবর্তন আনতে পারেন। জানানোর বিষয়টি আপনাকে যত দ্রুত সম্ভব করতে হবে। মানহানি বা মামলার ঝুঁকি থাকলে বিষয়গুলো সম্পাদককে জানিয়ে রাখুন। এই ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেতে আপনার সম্পাদক প্রয়োজনে চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি আইনজীবীকে দেখিয়ে তাঁর পরামর্শ নিতে পারেন।

পরবর্তী অধ্যায় আপনাকে শেখাবে, গবেষণার শুরুতেই কীভাবে ডেটা সুরক্ষার উদ্যোগ নিতে হয়।