আপনি যার ব্যাপারে প্রতিবেদন করছেন, তিনি যদি ক্ষমতাধর ও বিপজ্জনক হয়ে থাকেন, তাহলে হয়তো ব্যক্তিগত সংঘাত এড়াতে আপনি সরাসরি সাক্ষাতের বদলে তাঁর কার্যালয়ে প্রশ্ন পাঠিয়ে জবাব চাইতে পারেন। তাদের এলাকায় না ঢোকা এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠজনদের কাছে নিজের চেহারা না চেনানোই এ ক্ষেত্রে উত্তম। লিখিত প্রশ্নের উত্তর (সাক্ষাৎকার) হয়তো ততটা ভালো হবে না, কিন্তু প্রতিবেদনটি রচনার জন্য অন্তত আপনি জীবিত থাকবেন।

এ ধরনের প্রতিবেদন তৈরির কাজ শুরু করার আগে জেনে নিন, আপনার প্রতিষ্ঠান আপনাকে কতখানি সুরক্ষা দিতে পারবে। আপনি যদি ফ্রিল্যান্সার হয়ে থাকেন, তাহলে নিজের সুরক্ষার কিছু ব্যবস্থা নিজেকেই করতে হবে।

ক্ষমতাধর কোনো ব্যক্তি বা সত্ত্বাকে গুরুতর কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করা আইনি ঝামেলাসহ শারীরিক হামলা ও হুমকির ঝুঁকি তৈরি করে। আইনি হুমকি হয়তো আপনার সম্পাদক যেন প্রতিবেদনটি প্রকাশ না করেন, সে জন্য দেওয়া হয়। এবং তিনি হয়তো সেটাই করবেন। কিন্তু আপনার তথ্য যদি সঠিক হয়, তাহলে সম্পাদককে বোঝানোর চেষ্টা করুন যে এ ধরনের মানুষেরা হুমকি দিলেও মানহানির মামলা খুব একটা করেন না। প্রথমত, তাদের এমনিতেই দুর্নাম আছে যা আদালতে তাদের অবস্থান দুর্বল করে দেবে (এই যুক্তি উদাহরণস্বরূপ অস্ত্র বাণিজ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে খাটে); এবং দ্বিতীয়ত, আদালতে একটি মামলার কারণে যে তথ্য তারা গোপন করার চেষ্টা করছে, তার সব সাক্ষ্যপ্রমাণ বেরিয়ে আসতে পারে। আপনি যদি এমন কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে কাজ করেন যিনি ভয়ভীতি দেখান, বিচারে প্রভাব বিস্তার করেন অথবা অন্য যে কোনো প্রকার হুমকি দেন, তাহলে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট অথবা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স-এর মতো প্রতিষ্ঠানের কাছে সাহায্য কামনা করুন।

আরো তথ্য দেখতে পারেন এখানে: https://www.cpj.org/about/ ev https://rsf.org/en.

ঝুঁকির মুখে থাকা সাংবাদিকদের সহায়তা করছে এমন সংগঠনগুলোর খোঁজ পাবেন এখানে: http://gijn.org/2014/07/14/new-resource-guide-emergency-assistance/


সূত্র বাছাই এবং তাঁদের সঙ্গে দেখা করার ঝুঁকি যাচাইয়ের পর সময় হচ্ছে আসল সাক্ষাৎকারের। পরবর্তী অধ্যায়ে সাক্ষাৎকারের প্রশ্নগুলোর পরিকল্পনা, সাক্ষাৎকারের সময় কেমন আচরণ করা উচিত এবং সফল হওয়ার জন্য যেসব নীতি অনুসরণ করা উচিত তা আলোচনা করা হবে।