দেশ ভেদে সাংবাদিকের সুরক্ষা আইনের ভিন্নতা আছে। ঠিক যেমন ভিন্নতা আছে আদালতে সাক্ষ্যপ্রমাণ হিসাবে কোনটি গ্রহণযোগ্য আর কোনটি নয়, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে। কাজেই এই আইনগুলো সম্পর্কে জানা আপনার দায়িত্ব। আপনি কী ধরনের ঝুঁকি নিতে যাচ্ছেন এবং তার সম্ভাব্য পরিণতি কী হবে, তাও আপনাকে বুঝতে হবে।

সূত্রের সঙ্গে সাক্ষাতের কোন জায়গাটা ভালো হবে সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। জনসমক্ষে দেখা করা ভালো, নাকি একান্তে? সাক্ষাতের সময় আশপাশে মানুষ ও কোলাহল থাকা ভালো, নাকি তা হওয়া উচিত গোপন পরিত্যক্ত কোনো জায়গায়? সাক্ষাতের এলাকা ক্যামেরা নজরদারির আওতায় আছে কি না, তাও বিবেচনায় রাখুন। যদি আশঙ্কা থাকে, কেউ স্পর্শকাতর আলোচনা শুনে ফেলতে পারে, তাহলে কোলাহলপূর্ণ এলাকায় সাক্ষাৎ করুন। কোলাহলের কারণে আপনাদের কথাবার্তা অন্যের (এবং আড়িপাতা যন্ত্র) জন্য শোনা কঠিন হয়ে পড়বে।

তবে রেকর্ড রাখুন- লিখিত, কম্পিউটারে কিংবা অডিও বা ভিডিও রেকর্ডে। রেকর্ড যথাসম্ভব সঠিক হতে হবে, তারিখ থাকতে হবে এবং তা এমনভাবে রাখতে হবে যেন প্রয়োজন হলেই তা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়। সূত্রের কাছে যে তথ্য আছে বলে তিনি দাবি করছেন তা তাঁর কাছে থাকা সম্ভব কিনা, সে ব্যাপারে একদম পরিষ্কার হয়ে নিন। সূত্র আসলেই কী দেখেছে বা জেনেছে বা বলার জন্য প্রস্তুত আছে, তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে খোঁজখবর করুন এবং সূত্রের পুরো বক্তব্যেরই বিস্তারিত হুবহু লিখুন বা রেকর্ড রাখুন। নিজের ভাষায় লিখতে যাবেন না। সূত্রের সঙ্গে আপনার হওয়া সব ধরনের যোগাযোগের পূর্ণ রেকর্ড রাখুন। তার দাবি করা অর্থ নিয়ে যে আলোচনা হয়েছে বা তাকে অর্থ দেওয়ার সময় যে কথা হয়েছে, তার রেকর্ডও রাখুন। প্রতিবেদন তৈরির ব্যয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রসিদগুলোও সংরক্ষণ করুন।

সূত্রের সঙ্গে স্বচ্ছ ও সৎ সম্পর্ক বজায় রাখুন। কোনো কারণেই তাদের সঙ্গে মিথ্যা বলবেন না বা বিভ্রান্ত করবেন না। যে প্রতিশ্রুতি রাখতে পারবেন না, তা সূত্রের সঙ্গে করবেন না, কিংবা এমন কোনো পরিণতির ভবিষ্যদ্বাণী করবেন না, যা হয়তো ঘটবেই না। সূত্রের সঙ্গে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতায় জড়িয়ে পড়বেন না বা তাদের এমন কোনো সমস্যা সমাধান করতে যাবেন না, যার কারণে তাদের সঙ্গে পেশাদারি দূরত্ব রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

আপনাকে যে সত্য বলা হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে আপনার সব ধরনের চেষ্টাই চালাতে হবে। কাজেই সূত্রের দেওয়া তথ্য আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা পেশাদারিত্বের সঙ্গে ঠান্ডা মাথায় ও সংশয়ের সঙ্গে অগ্রসর হতে হবে। তাদের ব্যক্তিগত বিস্তারিত তথ্য যাচাই করে নিন, এবং যে তথ্য তারা লুকানোর চেষ্টা করে, তার ব্যাপারে সন্দেহপ্রবণ হোন। কঠিন কঠিন প্রশ্ন করুন। তাদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে অপ্রত্যাশিত বিচ্ছেদ ও সমস্যার ব্যাপারে প্রস্তুত হোন এবং ভুল কিছু ঘটছে কি না, সে ব্যাপারে সবসময়ই জিজ্ঞাসাবাদ করুন। নির্ভুল প্রত্যক্ষদর্শী বলে কিছু নেই, এবং কোনো সূত্রের সম্পর্কে আপনি আগে জানতেন না এমন কোনো তথ্য পরবর্তীতে কেউ দিলে আপনি অবাক হবেন না। সূত্রকে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়ে আপনার দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাইরে তিনি যদি আপনার প্রতিবেদন তৈরি বা তার উপাদানগুলোর ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে চান, তবে তা প্রতিহত করুন।