অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা সবসময় বুঝতে চায় সিস্টেম বা ব্যাবস্থা কিভাবে কাজ করে, অথবা কিভাবে তার কাজ করার কথা। এজন্য আপনার যে ধরনের তথ্য দরকার, তা বিবেচনায় নিন। আপনার প্রশ্নগুলোকে এভাবে সাজান:

  • > এই প্রক্রিয়া বা সিস্টেম কীভাবে কাজ করার কথা?
  • > কার কখন এবং কীভাবে কাজ করার কথা ছিল?
  • > প্রক্রিয়াটি কীভাবে নথিবদ্ধ ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে?
  • > প্রক্রিয়ায় কী ধরনের মানদন্ড থাকতে হবে, কীভাবে তা নিশ্চিত করা হবে এবং কে নিশ্চিত করবেন?

জবাবগুলো যতটা বিস্তারিত ও পূর্ণাঙ্গ হবে, ততই আপনি ভালোভাবে বুঝতে পারবেন, কোথায় এবং কখন গলদ হচ্ছে।

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়ার পাশাপাশি, আপনার অনুসন্ধানে আরো কিছু বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে। এটি মাথায় রেখে কাজ করলে আপনার তথ্য, ফাইলপত্র খুব ভালোভাবে গুছিয়ে রাখা সহজ হবে। যেন প্রতিবেদন লেখার সময় সবকিছু খুঁজে পেতে আপনার সময় বেশি না লাগে, বা কিছু ভুলে যাওয়ার মতো অবস্থা না হয়।

হাতে থাকা কেসের জন্য টাইমলাইন তৈরি

অনুসন্ধানের ধাপগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। এর মানে এই নয় যে আপনাকে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে হবে। বরং, কখন, কোন তথ্যটি পাওয়া গেল তার ধারাবাহিক কালক্রম বজায় রাখতে হবে। তাহলে, আপনি কোনটির পর কী হয়েছে এবং যুগপৎভাবে কী হয়েছে, তার একটি পরিষ্কার চিত্র তুলে ধরতে পারবেন।

আপনাকে জ্ঞানের গুণগত ও পরিমাণগত পার্থক্যও করতে হবে।

পরিমাণগত দিকটা হলো বিভিন্ন সংখ্যাগত হিসাব। ধরা যাক, একটি ওষুধের ক্ষেত্রে কতগুলো গুণগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা হওয়া উচিত? জলাশয়ে দূষণের মাত্রা কত? বিগত পাঁচ বছরে শহরে অপরাধের হার কী পরিমাণে বেড়েছে? প্রায়শই সংখ্যার হিসাবে অকাট্য প্রমাণ থাকার কারণে স্থানীয় একটি সংবাদ জাতীয় পর্যায়ে অনুসন্ধানের বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়। যেমন আপনার এলাকায় বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার হার হয়তো পুরো দেশেরই চিত্র প্রতিফলিত করতে পারে।

বিশ্বের বহু জায়গায়ই পরিমাণগত বা লিখিত নথি পাওয়া সম্ভব হয় না। কারণ এমন নথি হয়তো থাকেই না। তবে নথিপত্রের ঘাটতি রয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে কোনো একটি বিষয়ে অনুসন্ধানের আরও দুটি উপায় রয়েছে: নিজস্ব পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট মানুষগুলোর পরিকল্পিত সাক্ষাৎকার। সাধারণ মানুষ, ঘটনা, যুক্তি, উদ্দেশ্য, অনুভূতি, ও তর্ক-বিতর্ক ইত্যাদিকে বিবেচনা করা হয় কোয়ালিটেটিভ ডেটা হিসেবে। মনে রাখতে হবে, যে কোনো একটি বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করলে তা আপনাকে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে। যেমন ছোটো একটি জমির দলিল বা ঠিকানা আপনাকে ওই জমির মালিকের কাছে পৌঁছে দিতে পারে।

গবেষণাকে গুছিয়ে রাখা

অনুসন্ধানলব্ধ সব তথ্য সুসংগঠিত করতে কিছু ইলেকট্রনিক প্রকল্প ব্যবস্থাপনা টুলস রয়েছে, যা সাক্ষাৎকার, যোগাযোগের তথ্য, তথ্যদাতা ও তাঁদের দক্ষতার জায়গাগুলো নিয়ে ডেটাবেস তৈরিতে আপনার সহায়ক হবে। এতে প্রশ্নের তালিকা, ঘটনা বা তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকতে হবে, যাতে প্রমাণিত তথ্য ও প্রমাণের অপেক্ষায় থাকা ধারণা বা সম্ভাব্য বিষয় এবং নথি-সংশ্লিষ্ট হাইপারলিংক, পরিসংখ্যান, তথ্যভান্ডার, সারমর্ম এবং সাক্ষাৎকার সংরক্ষিত হবে। সাংবাদিকদের মধ্যে এভারনোট (Evernote) খুবই জনপ্রিয়। কিন্তু এটি গোপন তথ্য সংরক্ষণের জন্য ততটা নিরাপদ নয়। ব্যবস্থাপনা টুল বাছাইয়ের আগে তার নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।