চিত্র ও রেখাচিত্র ব্যাখ্যায় সবসময়ই শীর্ষ বা চূড়ার দিকে তাকান। রেখাচিত্রের ক্ষেত্রে আপনাকে মাত্রা আর শুরুর জায়গাটা বুঝতে হবে। পরিবর্তন যে অংশে দৃশ্যমান শুধু সেই অংশটিতেই আলোকপাত করার মাধ্যমে পরিমাপকের মাত্রা বাড়িয়ে তাকে নাটকীয়ভাবে তুলে ধরা যায়। রেখাচিত্র বিশ্লেষণের সময় শতকরা হিসাবের ব্যাপারে ভালো করে যাচাই করতে হবে। আগের নমুনা ও তুলনার তথ্যেও কথা মাথায় রাখতে হবে।

কখনো কখনো পরিসংখ্যানের দুটি গুচ্ছ বা সেট একই ধরনের প্রবণতা তুলে ধরে। এর মানে এই নয় যে তারা একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত অথবা দুটির মধ্যে কারণ ও প্রভাব সংশ্লিষ্ট যোগসূত্র রয়েছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুরা বড় হয়। একই হারে বাড়ে তাদের ভাষার দক্ষতাও। তার মানে এই নয় যে শারীরিক বৃদ্ধিই তাদের ভাষার দক্ষতা বাড়ায়! আবারও বলছি, আপনাকে রেখাচিত্র ও চার্ট ভালোভাবে পর্যালোচনা করে বোঝাতে হবে কেন এগুলোর মধ্যে যোগসূত্রের ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে। এধরণের সম্পর্ক প্রমাণে এ বিষয়ে কি একই ধরনের গ্রহণযোগ্য গবেষণা আছে? একইভাবে একটির পর আরেকটি ঘটনা ঘটা মানেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রমাণ হয়ে যাওয়া নয় যে, প্রথম ঘটনার কারণেই দ্বিতীয়টি ঘটেছে। কেবল পরিসংখ্যান দিয়েই কোনো কিছু প্রমাণ সম্ভব নয়। এর সাথে প্রাসঙ্গিক পটভূমির বিষয়ে গবেষণা ও অনুসন্ধান প্রয়োজন। এতে অন্যান্য সম্ভাব্য কারণগুলোকে বাদ দিতে দিতে, আপনি সেই সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিটি সনাক্ত করতে পারবেন, যার কারণে প্রথম ঘটনাটির পর দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটেছে।

ডেটার প্রেক্ষাপট অনুসন্ধানের সময়, খোঁজ করুন: কোন প্রতিষ্ঠান এই জরিপটি করিয়েছে এবং এখানে তাদের কোনো নির্দিষ্ট স্বার্থ জড়িত আছে কিনা। ই-সিগারেটের ওপর পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল বার্তাসংস্থা রয়টার্স। পরীক্ষাটি চালিয়েছিল ফিলিপ মরিস ইন্টারন্যাশনাল। কোম্পানিটি এমন একটি সিগারেট তৈরি করতে চেয়েছিল, যা কফির চেয়েও কম ক্ষতিকর। রয়টার্সের এই প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়: কিভাবে এরকম একটি গবেষণার ফলাফল ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ের করা জরিপ-গবেষণা নিয়েও সংশয়ী হতে হবে। কারণ কোনো কোনো বিভাগ এসব গবেষণার জন্য অনুদানের ওপর নির্ভর করে এবং সেই অনুদানের পেছনে কারো স্বার্থ জড়িয়ে থাকতে পারে।


এতক্ষণে আপনি সব ধরনের তথ্য যোগাড় করে ফেলেছেন, সম্ভাব্য সূত্র বা তথ্যদাতাদের নাম জেনেছেন, এবং একটি ডেটাবেসও তৈরি করেছেন। পরের অধ্যায়ে বর্ণনা করা হবে ভালো ব্যক্তি-সূত্র চিহ্নিত করা, এবং তাদের কাছ থেকে তথ্য বের করার কৌশল।