অধিকাংশ খবরের আইডিয়া বা ধারণা জন্মায় সাংবাদিকের নিজের আগ্রহের জায়গা থেকে। আগের প্রতিবেদন বা চলমান ঘটনাগুলোর মধ্যে থাকা প্রশ্ন থেকেই এই ধারণা তৈরি হয়। কোনো বিষয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে, বিষয়টিতে আপনার উৎসাহ তৈরি হতে পারে। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, কারও সঙ্গে আলাপচারিতা কিম্বা কারো কাছ থেকে শোনা কোনো মন্তব্য থেকেও খবরের ধারণা মিলতে পারে। এখানে একটি বিষয় বোঝা জরুরি যে, সবসময়ে ও প্রতিবারই ভালো সংবাদের ধারণা মিলবে, বিষয়টা এতো সহজ নয়। সাংবাদিকদের কাছে সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন কাজই হচ্ছে ভালো একটা ধারণা দাঁড় করানো।

প্রথমত, কোনো প্রতিবেদনের ধারণা হুট কওে আপনার কোলে এসে পড়বে, এমন চিন্তা বাদ দিতে হবে। অনেক উঠতি অনুসন্ধানী সাংবাদিকের পেশাগত জীবনের যাত্রা শুরু হয় এমন কল্পনা নিয়ে যে অন্ধকার গলিতে কেউ এসে তার হাতে গোপন নথি তুলে দেবে। তাদের মনে হয়, একবার তথ্য প্রকাশ পেলে, সংবাদ ছাপা হবে প্রথম পাতায়। সবকিছু ভালো হলে মোটা হরফে স্বনামে সংবাদটি প্রকাশিত হবে। প্রশংসা, স্বীকৃতি ও পদক-পুরস্কারও জুটবে। অবশ্য, মাঝেমধ্যে এমন ঘটনা ঘটেও। ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির খবর অজ্ঞাতনামা একটি সূত্রের দেওয়া তথ্যের মাধ্যমেই সূচিত হয়েছিল যার জেরে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। কিন্তু সাধারণত, রাজনৈতিক দুর্নীতির বিষয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির ফোন বা অতি গোপন নথি প্রকাশের ঘটনা খুবই বিরল এবং এসব তথ্য খুব ভালোভাবে যাচাই করে দেখতে হয়। ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি যেমন উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক অসততার নজির, তেমনি রিপোর্টারদের একাগ্রতা এবং শ্রমেরও একটি উদাহরণ।

দ্বিতীয়ত, একজন সাংবাদিকের ছুটি বলে কিছু নেই। তাঁদের সব সময়ই চোখ খোলা রাখতে হবে। কাজে যাওয়ার পথে রাস্তার পাশে বন্ধ হয়ে যাওয়া ড্রেনের দিকেও নজর রাখতে হবে। ইমিগ্রেশন কার্যালয়ের সামনে পাসপোর্টের পাওয়ার অপেক্ষায় মানুষের লম্বা সারি কিম্বা হাসপাতালে নার্সদের অসদাচরণ – এমন জায়গা থেকেও স্টোরি বেরিয়ে আসে, যদি তা রিপোর্টারের নজরে পড়ে। প্রথম নজরে যা দেখা যায়, সেখানে তার চেয়েও বেশি কিছু থাকতে পারে, যা কিছুটা অনুসন্ধান দাবি করে। এ সময় সংবাদ হতে পারে এমন ধারণাগুলো নোটবইয়ে লিখে রাখা উচিত। যা পর্যবেক্ষণ করলেন এবং যেসব প্রশ্ন আপনার মাথায় এসেছে সেগুলো লিখে রাখুন। ভালো হয় মুঠোফোনে এগুলো রেকর্ড করে রাখলে। ছবি তুলুন, ডায়াগ্রাম আঁকুন এবং তার ডিজিটাল কপিটি সঙ্গে রাখুন, যেন যেখানেই যাচ্ছেন, অনুসন্ধানটিকেও সেখানে সঙ্গে নিতে পারেন।

তৃতীয়ত, নিজের ইন্দ্রিয়ের ওপর ভরসা রাখুন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও লোকজনের সঙ্গে কথা বলার পর কোনো রিপোর্টার হয়তো এমন কিছু পেয়ে যেতে পারেন, যা অন্য কেউই খেয়াল করেনি। ঘটনাটি আপনার সঙ্গে ঘটেছে বলে যে অনুসন্ধানের গুরুত্ব কমে যাবে, তা নয়। রিপোর্টাররা সবচেয়ে ভালো প্রত্যক্ষদর্শী। প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে নিজের অভিজ্ঞতা এবং পর্যবেক্ষণকে অগ্রাধিকার দিন। আপনার অভিজ্ঞতা দিনশেষে কাজে না-ও আসতে পারে, কিন্তু তাই বলে, একটু পরীক্ষা করে দেখার প্রাথমিক ধাপ থেকে সরে আসবেন না।