একটি সংবাদের ধারণা নিয়ে কাজ করার সময় দুটি সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রথমত, আপনার ব্যক্তিগত অনুভূতি অনুসন্ধানের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। অনুসন্ধানের সময় সরকারি কর্মকর্তাদের আচরণে আপনি রুষ্ট হয়ে থাকতে পারেন। আর সেই কারণে সংবাদে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে প্রয়োজনীয় তথ্য উপস্থাপনের পরিবর্তে রিপোর্টটি দোষারোপ ও অভিযোগের দিকে চলে যেতে পারে। সাংবাদিকতার মূল নীতিগুলোর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না। নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করুন। বিশ্¦স্ত পরামর্শক বা সহকর্মীর সঙ্গে কথা বলুন। এবং এটি যেন তথ্যনির্ভর প্রতিবেদন হয়, তা নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সবসময়ে প্রতিনিধিত্বশীল নাও হতে পারে। আপনি শুধুমাত্র একজন। তাই আপনার মতো আরও কত লোক একই সমস্যায় ভুগেছেন তা বোঝা প্রয়োজন। এখানে কয়েকটি প্রশ্ন আসতে পারেÑ আপনি একজন সাংবাদিক অথবা একজন পুরুষ অথবা একজন নারী অথবা একজন শিক্ষিত ব্যক্তি হওয়ার কারণে কি বিশেষ কোনো অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন? অন্যদেরও কি একই ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছে? এই সমস্যা কি প্রতিদিনই ঘটে? বা আজকেরটা কি ভিন্ন? এই গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা কাটিয়ে ওঠার উপায় হলো একটি একক ঘটনার বাইরে গিয়ে বৃহৎ পরিসরে প্রতিবেদন করা। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরা যায় মতামত কলামে, অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে নয়। একটি যথার্থ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করতে হলে সমস্যার কারণ জানতে হবে, পটভূমি বুঝতে হবে এবং বিভিন্ন লোকের সঙ্গে কথা বলতে হবে যাতে প্রতিবেদনটি কোনো একজনের ব্যক্তিগত ক্ষোভের বদলে সমস্যাটির প্রতিনিধিত্ব করে।

যাঁদের আপনি চেনেন ও যাঁদের সঙ্গে কাজ করেন তাঁদের সবার ক্ষেত্রেই এসব সুবিধা ও অসুবিধার বিষয়টি প্রযোজ্য। হয়তো তাঁদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা চরম সত্য, কিন্তু তা প্রতিনিধিত্বশীল নাও হতে পারে এবং তাতে ব্যাক্তিগত অনুভূতির ছাপ পড়তে পারে। এ ছাড়া, যেসব বন্ধুবান্ধব বা পরিচিত ব্যক্তি কোনো ঘটনা, সমস্যা বা বিষয়ে সরাসরি জড়িত নয়, তাদের দেওয়া তথ্যের বিষয়ে সর্তকতা প্রয়োজন। এরকম তথ্যের ক্ষেত্রে আপনি যদি কারো নাম-পরিচয় সংগ্রহ করে তাঁর সাক্ষাৎকার নিতে না পারেন, তাহলে মনে করতে হবে এটি একটি গুজব। এ রকম তথ্য এড়িয়ে যাওয়া উচিত। তাই, আবারও বলছি, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা কেবল একটি ভালো অনুসন্ধান সূচনা করতে পারে, এর বেশি কিছু নয়।

এবিষয়ে সেন্টার ফর ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজমের (সিআইজে) পরামর্শ: “আপনি এমন অনেক লোককেই চিনতে পারেন, পেশাগত কারণে যাঁরা তথ্য প্রকাশ না করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। উদাহরণ হিসাবে পুলিশবাহিনীর সদস্যদের কথা বলা যায়। তাই চেনা লোকদের আপনি কীভাবে ব্যবহার করবেন সেই বিষয়ে প্রথমেই চিন্তা করে নিন। এমনটা মনে করবেন না, কেউ একজন বন্ধু বা প্রতিবেশি হওয়ার কারণে নিজের ভূত-ভবিষ্যৎ ভুলে গিয়ে আপনাকে সাহায্য করবে। তথ্য প্রকাশ তাঁদের জীবনেও বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই কারও ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের আগে সব সময় তাঁর অনুমতি চেয়ে নিন।”