গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এটা ছড়ানোর জন্য রাস্তার পাশের গালগল্প, ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের চটকদার কথাবার্তা, ট্যাক্সিচালক ও যাত্রীদের কথোপকথন, গলফ কোর্সের ক্যাডি, ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক লোকজন, জমির দালাল, পুলিশের সদস্য এবং ক্যাফে ও পানশালার কর্মীর চেয়ে কার্যকর অন্য কোনো মাধ্যম নেই। তবে, গালগল্প বা রটনা এবং গুজব আমাদের বাস্তব ঘটনা ও পরিবর্তনের বিষয়ে সজাগ করতে পারে। কোনো এলাকায় নারীদের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার কারণ কি মানবপাচার? লোকজন কি ঘরে বানানো চোলাই মদে আসক্ত হতে শুরু করেছে? নামকরা একজন ব্যবসায়ী কি হঠাৎ করে পয়সাকড়ি খরচ করা বন্ধ করে দিয়েছেন? কিম্বা, একজন শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা কি কুখ্যাত অপরাধীদের সঙ্গে সামাজিকভাবে মেলামেশা শুরু করেছেন? এসব ঘটনার অগ্রগতির বিষয়ে রাস্তার পাশের আলোচনাই আপনাকে তথ্য দেবে এবং এসব কাহিনীর অনেকগুলো সত্যও হতে পারে। কিন্তু, সাংবাদিকদের এসব ক্ষেত্রে নিজের কাছেই প্রশ্ন করতে হবে, মানুষ কেন এগুলো বিশ্বাস করছে। এগুলো আমাদের এই বর্তমান সময় বা দেশ সম্পর্কে আসলে কী বলছে?

প্রথম পদক্ষেপে এসব গুজবের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। যাদের বিষয়টি জানার কথা সেরকম সূত্রগুলো থেকে সব সময় যাচাই করতে হবে। তারপর, যতটা পারা যায় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য নিতে হবে। যেমন: নিখোঁজ মেয়েটির খবর নিশ্চিত করতে স্থানীয় থানায় খোঁজ নিতে হবে। অ্যালকোহল অপব্যবহারের বিষয় হলে চিকিৎসকরা তা জানবেন। ব্যবসায়ীর বিষয়ে খবর নিতে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কীভাবে চলছে, সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের কাছে খোঁজ করতে হবে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা জানবেন বাজারের প্রবণতার কথা। যখন কোনো গুজবের কিছু ভিত্তি মিলবে, তখন সেটা ধরেই প্রতিবেদনের পরিকল্পনা শুরু হতে পারে।