শুরু করুন আপনার সূত্রের প্রাথমিক তথ্য মূল্যায়ন দিয়ে। যেমন, কারো কাছ থেকে কোনো খবর পেলে বা কোনো ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নাম-ঠিকানাহীন খোলা চিঠি থেকে তথ্য পেলে, আপনার অবশ্যই জিজ্ঞাসা করতে হবে যে, এটি কে লিখেছে। তার বিশ^াসযোগ্যতা আছে কিনা, উদ্দেশ্য কী? যে কেউ যে কোনো বিষয় ইন্টারনেটে প্রকাশ করতে পারেন। এখানে সত্যিকারের বিশেষজ্ঞ যেমন থাকতে পারেন, তেমনি ষড়যন্ত্রতাত্ত্বিকা থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক স্বার্থের লবিস্টও থাকতে পারে।

আপনি যদি ব্যক্তির পরিচয় সনাক্ত করে ফেলতে পারেন, তাহলে আপনাকে নামতে হবে তার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে। সেই ব্যক্তি সম্পর্কে যতটা পারা যায় পড়ে ফেলতে হবে। তার জীবন-কাহিনী জানার চেষ্টা করতে হবে: কোথায় তিনি পড়াশোনা করেছেন, তাঁর কী কী ডিগ্রী আছে? তাঁদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও টুইটগুলো পরীক্ষা করে দেখতে হবে। কোনো নতুন উদ্যেগের কথা জানা গেলে, এর পেছনে প্রধান প্রধান উদ্যোক্তা কারা তা অনুসন্ধান করতে হবে। তাঁদের সহকর্মী, প্রতিপক্ষ ও সরকারের সঙ্গে তাঁদের যোগসূত্রের বিষয়টি বারবার পরীক্ষা করে দেখতে হবে। একজন নতুন কৃষিমন্ত্রী যদি শস্য বাণিজ্যে নিয়োজিত একটি শীর্ষস্থানীয় কোম্পানির বোর্ডে থাকেন, তখন এটা বৈধ কিনা তা যাচাই করতে হবে। এমনকি এই রকম পদে থাকা বৈধ হলেও, স্বার্থের সংঘাতের বিষয়টি কী উল্লেখ করা হয়েছে? এই ধরনের বিষয়গুলো জানতে পারলে শুধু সোর্সের দেয়া তথ্য মূল্যায়ন সহজ হবে না, পরে আপনার প্রতিবেদনের জন্যও প্রয়োজনীয় অনেক ধারণা পাবেন।

সেই ব্যক্তির সঙ্গে কাজ করেছে, এমন মানুষদের সঙ্গে কথা বলুন। তারা সেই ব্যক্তি সম্পর্কে কী বলছে? কী হবে যদি আপনার চিন্তা করা ধারণার সাথে তাদের কথা না মেলে? আপনি হয়তো ভুল পথে চলে যাবেন। আবার সেই ব্যক্তির ‘ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনের’ ব্যাপারেও সতর্ক থাকুন। তাদের সব কথা তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্বাস করবেন না।

জ্বালানি, জমি কিংবা বৃত্তির মতো কোনো কিছুর অপ্রতুলতা নিয়ে প্রতিবেদন পড়ার সময়ও কিছু প্রশ্ন মাথায় আসার কথা। এগুলো কারা নিয়ন্ত্রণ করেন? কীভাবে বণ্টন কার্যক্রম পরিচালিত হয়? এসব প্রশ্ন তোলার মাধ্যমে সম্ভাব্য কোনো দুর্নীতি সনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা এখান থেকে ধারণা পেতে পারেন যে: ঐ ব্যক্তিরা কতটা সত্য উন্মোচন করেছেন এবং কতটা লুকিয়েছেন।

অভিযোগের পক্ষে যেসব তথ্যপ্রমাণ হাজির করা হচ্ছে, তার যথার্থতা নিয়েও আপনার প্রশ্ন তোলা উচিৎ। মিথ্যা বা খ-িত কোনো অভিযোগের জন্য ‘প্রমাণ’ হাজির করা এখন খুবই সহজ। অফিসিয়াল লেটারহেড (বা ফটোশপ), কম্পিউটার ও ফটোকপিয়ার থাকলেই এখন এসব প্রমাণ তৈরি করে ফেলা যায়। এমনকি তাঁদের নথিপত্র আসল হলেও, দেখা যাবে আপনাকে শুধু বেছে বেছে অল্প কিছু নথি দেয়া হয়েছে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বর্পূণ কিছু নথি বাদ রাখা হয়েছে, যাতে পরে বলা যায় আপনার রিপোর্ট খন্ডিত বা অর্ধসত্য।

কখনো কখনো তথ্যগুলো এতোটাই জটিল বা টেকনিক্যাল হতে পারে যে বিশেষজ্ঞ নন এমন সাংবাদিকের পক্ষে তা বুঝে ওঠা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়, এবং অন্য কারো বিশেষজ্ঞ-জ্ঞানের ওপর নির্ভর করতে হয়। এ রকম তথ্য নিয়ে আলোচনার জন্য স্বাধীন বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হবে। সেই বিশেষজ্ঞ হতে পারেন হিসাবরক্ষক, আইনজীবী বা চিকিৎসক। আবার এমনকি দেখতে সাদামাটা মনে হলেও কোনো কোনো নথিতে অপব্যাখ্যার ঝুঁকি থাকে। মাঝে মধ্যে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হওয়ার পরও দেখা যেতে পারে অসদাচরণ অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ। যখন দুর্নীতির অভিযোগ যখন মশামাছির মতো উড়ে বেড়ায়, তখন সাংবাদিকদের খুবই সতর্ক থাকতে হয়, যেন তাঁরা তথ্যদাতার নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নের ব্যবহৃত না হন।