অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা সময়সাপেক্ষ, ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। দৈনন্দিন ঘটনাবলির ওপর যখন মোটামুটি সন্তোষজনকভাবে পত্রিকা বের করা যায়, তখন অনুসন্ধানী সাংবাদিককে এ ধরনের কঠিন কাজের জন্য সম্পাদককে রাজি করানোর প্রশ্ন আসে।

তাহলে এটি করবেন কেন? কারণ নির্ভুল তথ্য, খুবই দারুনভাবে গল্পের মাধ্যমে বলতে পারলে তা পরিবর্তন আনতে পারে। গত কয়েক বছরের পুলিৎজার পুরস্কারজয়ী প্রতিবেদনগুলো দেখলেই বোঝা যায়, কিভাবে একটি ভালো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিভিন্ন কমিউনিটি বা পলিসিতে প্রভাব রাখতে পারে। ২০১৮ সালে, এই পুরস্কার পেয়েছিল ওয়াশিংটন পোস্ট। তারা উন্মোচন করেছিল অ্যালাবামার এক সিনেট প্রার্থীর অতীত যৌন হয়রানির ঘটনার অভিযোগ। এবং এটি সিনেট নির্বাচনের দৃশ্যপট পাল্টে দিয়েছিল। ২০১৭ সালে পুলিৎজার জিতেছিলেন চার্লেসটন গ্যাজেট-মেইলের রিপোর্টার এরিক আয়ার। তিনি দেখিয়েছিলেন কিভাবে পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় বিপুল পরিমাণ আফিম জাতীয় নেশা-পণ্য ঢুকছে। এবং ২০১৬ সালে পুরস্কারটি জিতেছিলেন ফ্লোরিডার দুইটি ভিন্ন ভিন্ন সংবাদপত্রের দুজন রিপোর্টার। তাঁরা একজোট হয়ে অনুসন্ধান করে দেখিয়েছেন, কিভাবে অঙ্গরাজ্যের মানসিক হাসপাতালগুলোতে সহিংসতা বাড়ছে।

তদুপরি, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। প্রশ্ন ছাড়াই সরকারি ভাষ্যের ওপর নির্ভর করে প্রতিবেদন তৈরির মানে, ক্ষমতাসীনদের হাতে এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার তুলে দেয়া। জনমতের প্রতিনিধিত্ব, জবাবদিহি ও সরকারের স্বচ্ছতার মতো গণতান্ত্রিক মূলনীতিগুলোয় ধস নামে, যখন গণমাধ্যম বিভিন্ন পক্ষের দাবি-পাল্টা দাবির যথার্থতা যাচাইয়ে কঠিন প্রশ্নগুলো করে না কিংবা তথ্য ও বিশ্লেষণ হাজির করে না।

Recommendation
Recommendation

Recommendation