পুরো কাহিনী বলার জন্য নয় বরং কোনো যুক্তির জন্য উদ্ধৃতি ব্যবহার করুন। তা যেন আবার একই কথার পুনরাবৃত্তি না করে, বরং বাড়তি তথ্য জানায়। তবে, মৌলিক ও প্রকৃত তথ্য দেওয়ার জন্য উদ্ধৃতির ব্যবহার না করাই ভালো। সূত্র আপনাকে যা বলেছে তা বিশ্লেষণের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং গল্পকে আরো বর্ণিল করতে এবং সূত্রের সঙ্গে আপনার কথোপকথন দেখাতে উদ্ধৃতি ব্যবহার করুন। আপনাকে মানুষ যা বলেছে হুবহু সেই শব্দগুলো ব্যবহার করা গুরুত্বর্পূণ। এক্ষেত্রে ব্যতিক্রমগুলো হলো:

  • >   কোনো ব্যক্তি এমন কিছু বলেছেন যা বোঝা কষ্টকর অথবা তাঁকে উপহাসের পাত্রে পরিণত করতে পারে এবং তার বক্তব্যের ‘স্বপক্ষে’ কিছুই যুক্ত করে না।
  • >   অবমাননা ও অশ্লীলতার বিষয়গুলো যদি আপনার প্রকাশক অনুমোদন না করেন।
  • >   ‘দেখুন’, ‘আপনি জানেন’, ‘আমি মনে করি’ জাতীয় কথার কথা। শব্দগুলো অপ্রয়োজনীয় এবং কোনো কিছুই যুক্ত করে না।

সব উদ্ধৃতিতে বক্তার পরিচয় দিন এবং আপনি নিজে যা দেখেননি তার বিবরণে সূত্রকে উদ্ধৃত করুন। অনুসন্ধানী রিপোর্টে সূত্রের পরিচয় দিয়ে উদ্ধৃতি প্রকাশ অন্য সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি। কারণ আংশিকভাবে হলেও পাঠকরা সূত্র দেখেই আপনার তথ্য-প্রমাণের মূল্য বিচার করবে। এছাড়া, রিপোর্টে কোনো নতুন বক্তার কথা ব্যবহারের আগে তা পরিষ্কারভাবে জানান। যদি কোনো কারণে বক্তার পরিচয় জানাতে না পারেন, তাহলে তার কারণ ব্যাখ্যা করুন : যেমন, সাক্ষাৎকারদাতা বলেছেন “আমি এই বিষয়টি দেখিয়েছি জানলে, কোম্পানি আমাকে বরখাস্ত করবে।”

উদ্ধৃতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সঠিকভাবে বাছাই ও উপস্থাপন:

  • >   একটি উদ্ধৃতির আগের লাইনটি পাঠককে যেন বুঝতে সাহায্য করে যে পরবর্তীতে কী আসছে।
  • >   উদ্ধৃতির জন্য আপনার উপস্থাপনার বার্তা সামঞ্জস্যর্পূণ হওয়া উচিত।
  • >   উদ্ধৃতির বর্ণনায় “তিনি বলেন’ কথায়ই থাকুন। অন্যান্য শব্দ (‘দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেন’, ‘দাবি করেন’, ‘যুক্তি দেন’) হয়তো অপ্রয়োজনীয় জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে বা (‘খন্ডন’, ‘প্রত্যাখ্যান’) এমন শব্দের ব্যবহারের কারণে পাঠক ভুল বুঝতে পারে। শুধুমাত্র যথাযথ বলে নিশ্চিত হলেই লেখায় একটা বাড়তি স্বাদ যুক্ত করতে কোনো নির্দিষ্ট বিশেষণ ব্যবহার করা যেতে পারে।
  • >   আপনি যখন তা অন্যকথায় প্রকাশ করবেন তখন কোনো প্রলেপ দেওয়ার জটিলতায় যাবেন না। মূল উৎসের অর্থ ও সুর ঠিক রাখুন। যদি কোনো মুখপাত্র বলেন, “আমাদের বাজেট নেই,” এটি অন্যকথায় প্রকাশের ক্ষেত্রে বলবেন না যে, “তিনি বলেছেন তার প্রতিষ্ঠান এই খরচের জন্য প্রস্তুত নয়”, যা আসলে শুধু আর্থিক অবস্থা না বুঝিয়ে মনোভাবের ইঙ্গিত দেয়।