আপনার প্রতিবেদনটি চিন্তা করুন বেশ কয়েকটি পর্বের সমষ্টি হিসেবে। এবং প্রতিটি পর্বে থাকবে বেশ কিছু অনুচ্ছেদ। এই পর্বগুলোতে (যেমন: একটিতে জাতীয় কেলেঙ্কারির প্রধান কুশীলবদেও নিয়ে কথা বলা হয়েছে, একটিতে গুপ্ত সংগঠনের ইতিহাস ও তাদের গড়ে ওঠা নিয়ে আলাপ করা হয়েছে) আপনার পুরো অনুসন্ধানটির একেকটি দিক উঠে আসবে। এবং সেগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা থাকবে। এভাবে আপনি একটি বৃহৎ দৃশ্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে উপস্থাপন করতে পারেন। এতে আপনার পাঠকের জন্য বুঝতে সুবিধা হবে। এটি একটি ‘মূল বাক্য’ দিয়ে শুরু হয়, যা পাঠককে বোঝায়, কোন দিকটি আপনি তুলে ধরতে চাইছেন অথবা আগে যা ঘটেছে তার সঙ্গে এটি কীভাবে সম্পর্কিত। প্রতিটি অনুচ্ছেদে নিচের বিষয়গুলো থাকা উচিত:

  1. (১) তথ্য-প্রমাণ (বিস্তারিত, বিবৃতি, যুক্তি, সংখ্যা)
  2. (২) সংজ্ঞা বা ব্যাখ্যা
  3. (৩) প্রসঙ্গ, ইতিহাস, তুলনা বা পার্থক্য
  4. (৪) কারণ কিংবা প্রভাব
  5. (৫) পক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তি
  6. (৬) ফলাফল নিয়ে বিশ্লেষণ বা পরামর্শ

দৈনিক পত্রিকায় কাজ করা সাংবাদিকরা প্রায়শই অনুচ্ছেদ করে গল্প লেখার শৈশবের অভ্যাসটি ভুলে যান। এর কারণ হলো পত্রিকাগুলো খুব কম ক্ষেত্রেই তাদের করা অনুচ্ছেদে রিপোর্ট ছাপে। সহ-সম্পাদকরা লাইন বাড়ানোর জন্য অনুচ্ছেদ ভেঙে ফেলে অথবা কয়েকটি অনুচ্ছেদ একত্র করে জায়গা বাঁচায়। এ নিয়ে চিন্তা করবেন না। প্রতিটি রিপোর্টকে দাঁড় করানোর জনে অনুচ্ছেদ একটি অতিপ্রয়োজনীয় বিষয়। পরিকল্পনা করুন এবং সেই অনুযায়ী অনুচ্ছেদ করে লিখুন। বিন্যাসের বিষয়টি নিয়ে সহ-সম্পাদকদের ভাবতে দিন।