প্রতিটি রিপোর্টের শুরু ও শেষটা ভালো হওয়া উচিত। যেকোনো লেখার শুরু ও শেষ অংশগুলোই সবচেয়ে শক্তিশালী হয়। সুন্দর সূচনা পাঠকদের টেনে নেয় এবং পুরো রিপোর্টটি পড়ে দেখার ভিত্তি তৈরি করে দেয়। অধিকাংশ গবেষণায় দেখা গেছে যে, বিষয় যতোই গুরুত্বপূর্ণ হোক না কেন, শুরুটা আকর্ষণীয় না হলে পাঠকরা আর এগোয় না। একইভাবে শেষটা হলো এমন এক ধারণা, যা পাঠক রিপোর্ট শেষে মনে রাখে।
শুরু করার পদ্ধতিগুলোর মধ্যে আছে:

  • > একটি সূচনামূলক দৃশ্য তুলে ধরা
  • > একটি সংক্ষিপ্ত বাক্যে রিপোর্টের মূলভাবের সারাংশ (পুরো রিপোর্ট নয়)
  • > এর ফলাফল বা প্রভাব। এরপর আপনি পেছন ফিরে বলতে পারেন এটি কীভাবে ঘটেছে।

সব ক্ষেত্রেই, রিপোর্টটি কী নিয়ে সেটি বলতে পাঠককে খুব বেশিক্ষণ অপেক্ষা করাবেন না। প্রচলিত একটি ভালো নিয়ম হলো সূচনায় কখনো রিপোর্টের ১০ শতাংশের বেশি রাখা উচিত নয়। কিন্তু এটিকে পাঠ্য বইয়ের ভাষায় ‘বিলম্বিত সূচনা’ হিসেবেও ভাববেন না। আপনার রিপোর্টের সূচনা হবে যেখানে এটি শুরু হয়েছে। আর এজন্য ঘটনা বা তথ্যসমূহের দীর্ঘ তালিকা অপ্রয়োজনীয়। রিপোর্টের শেষে এসেও আপনাকে একইভাবে কাজ করতে হবে। সন্তোষজনক সমাপ্তির মধ্যে আছে:

  • > আলগা প্রান্তগুলোকে বেঁধে ফেলা (চরিত্রগুলোর কী ঘটেছে বা আগামীতে কী ঘটতে যাচ্ছে)
  • > আমরা কেন আগ্রহী তা বোঝাতে রিপোর্টের মূলভাবের সারাংশ আরেকবার বলা
  • > শিরোনামের মত একটি আকর্ষণীয় সমাপণী বক্তব্য (কিকার) তৈরি করুন (যা মানুষকে ভাবিয়ে তোলে)
  • > পটভূমির ওপর জোর দিন। বিষয়টিকে আবার তার নিজের অবস্থানে নিয়ে যান এবং ঘটনার সর্বশেষ অবস্থা এবং এ নিয়ে আশা-সীমাবদ্ধতার কথা পাঠককে জানান।
  • > চলে যান শুরুতেই সাক্ষাৎ হওয়া লোকজনের কাছে এবং তাদেরকেই সমাপ্তি টানতে দিন।
  • > শুধুমাত্র সম্পূর্ণতার জন্য সমাপ্তি টানবেন না। আর ভিন্ন শব্দেও কখনো পাঠককে বলবেন না ‘শুধু সময়ই বলে দেবে’। আপনি একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিক, তাই কোনো নির্দিষ্ট সমাধান ছাড়া সমাপ্তি টানলে আপনার ওপর পাঠকের আস্থা কমে যাবে।

আপনার রিপোর্টের গাঁথুনি জোরদার করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ: যেভাবে গল্প এক অংশ থেকে আরেক অংশে এবং এক অনুচ্ছেদ থেকে আরেক অনুচ্ছেদে যায়। একই রকম হবে এমন বর্ণনামূলক রিপোর্ট তৈরির সবচেয়ে দরকারি কৌশল হলো:

  • > বিষয়বস্তু বার বার উল্লেখ করা।
  • > ধারণাগুলোকে জোটবদ্ধ ও স্পষ্ট রাখতে বেশি করে উপমা ব্যবহার। উদাহরণস্বরূপ, পরিবেশকে আপনি মানুষের শরীরের সঙ্গে তুলনা করে বলতে পারেন শরীরের সব অংশকে যেমন একসঙ্গে কাজ করতে হয়, পরিবেশও সেভাবেই কাজ করে।
  • > ছবি, কোনো বস্তু, প্রবাদ বা আপনার অনুসন্ধানের সঙ্গে খাপ খায় এমন কিছু এমনভাবে ব্যবহার করুন যেন তা রিপোর্টকে বেঁধে রাখার সুতার মতো কাজ করে।

জটিল যুক্তিতর্কের ক্ষেত্রে কতগুলো সহজ কথা পাঠককে আপনার সঙ্গে রাখার জন্য অত্যন্ত জোরালোভাবে কাজ করতে পারে। আগের অনুচ্ছেদের ধারাবাহিকতায় কোনো অনুচ্ছেদ (‘এবং’), পথ পরিবর্তন হলে (‘কিন্তু’), ফলাফল হলে (‘তাই’), অনুসরণ হলে (‘এরপর’) এমন নির্দেশক শব্দ বেশি ব্যবহার করুন।

প্রাথমিক খসড়াটি আপনার নিখুঁত রিপোর্ট হওয়ার কথা নয়, বরং এটি হবে দীর্ঘ। তাই চূড়ান্ত করার সময় অতি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হবে রিপোর্টের জন্য পূর্বের সংগৃহীত তথ্য এখনো প্রযোজ্য কিনা এবং পরে পাওয়া কোনো তথ্যের সঙ্গে তা বিরোধপূর্ণ কিনা- তা যাচাই করা। একইভাবে নতুন তথ্য, বৈজ্ঞানিক রিপোর্ট বা পরীক্ষার ফলাফলও আসতে পারে। ইন্টারনেটে আবারও অনুসন্ধান চালানো ভালো। প্রতিবেদনটি সম্পাদনার সময় হয়তো কিছু অংশকে অতিরিক্ত বোঝা বলে মনে হতে পারে। এগুলোকে আপনি রিপোর্ট থেকে টেনে কোনো বক্স বা সাইডবারে নিতে পারেন । তবে সেরা রিপোর্টগুলোর খসড়া সাধারণত একাধিকবার করা হয়। আপনার লেখা সম্পাদনা কোনো বাড়তি বিলাসিতা বা মূল্যহীন কাজ নয়। বরং এটি আপনার সাধ্যমত সবচেয়ে ভালো রিপোর্ট লেখার পদ্ধতির একটি অংশ। একাকী বারবার খসড়া ও সম্পাদনা কষ্টকর হয়ে পড়লে সম্পাদনা ও সংশোধনের কাজের জন্য একজন সহকর্মী বা দলের সদস্যকে খুঁজে নিন। দলগত কাজ থেকেই ভালো ধারণা আসে।