ওয়াই-ফাই রাউটার গুরুত্ব না দেওয়া, একটি বড় ঝুঁকি। একজন হ্যাকার আপনার রাউটার ক্র্যাক করতে পারে এবং আপনার সম্পূর্ণ নেটওয়ার্কের প্রবেশাধিকার নিয়ে নিতে পারে। তাই, প্রথম দেওয়া ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ডটি পরিবর্তন করে, আরেকটি আরও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড বসিয়ে নিন। এরপর, ওয়াই-ফাই এনক্রিপ্ট করুন। এ মুহূর্তে সবচেয়ে নিরাপদ এনক্রিপশন পদ্ধতি হলো ডব্লিউপিএটু (WPA2), সুতরাং আপনার তথ্য এনকোড করার সময় আপনি এই ফাংশনটি ব্যবহার করতে পারছেন কিনা তা নিশ্চিত হয়ে নিন। আপনি কীভাবে আপনার রাউটারটি এনক্রিপ্ট করবেন তা নিয়ে সংশয় থাকলে আপনার ওয়াইফাই সেবাদাতা এ বিষয়ে আপনাকে সাহায্য করতে পারে। তবে, ইন্টারনেটে সংযোগের সবচেয়ে সুরক্ষিত পদ্ধতি হলো এলএএন (LAN) কেবলের মাধ্যমে সংযোগ। বাসায় কাজ করার সময় এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করার জন্য জোর সুপারিশ করা হচ্ছে।

রাউটারটি সুরক্ষিত করার সঙ্গে সঙ্গেই আপনি ইন্টারনেটে গবেষণা সম্পর্কে ভাবা শুরু করতে পারেন। আপনি হয়তো অনুসন্ধানের কাজে ইন্টারনেট ব্যবহার করবেন মূলত ব্যাকগ্রাউন্ড বা পটভূমি সম্পর্কিত তথ্য এবং সম্ভাব্য উৎসগুলোর খোঁজ করতে। সংবেদনশীল বিষয় অনুসন্ধান করার মানে হচ্ছে আপনার কার্যক্রমে যারা নজর রাখছে, তাদের আরও উৎসুক করে তোলা। তাই, আপনার গবেষণা, ভবিষ্যতের উৎস এবং নিজেকে সুরক্ষিত করতে ব্রাউজিং এনক্রিপ্ট করা অপরিহার্য।

নিরাপদে ইন্টারনেট সার্ফ করার জন্য দুটি পদ্ধতি রয়েছে যা আপনাকে একইসঙ্গে সেন্সরশিপ বা নিয়ন্ত্রক বাধা এড়িয়ে যাওয়ারও সুযোগ করে দেয়: আপনি হয় ভিপিএন (ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক) নয়তো প্রক্সি সার্ভার ব্যবহার করতে পারেন – যা আপনার অবস্থানকে অদৃশ্য করে তোলে। ভিপিএন কিভাবে কাজ করে, দেখতে পারেন এখানে:

ভিপিএন অনেকটা মাস্কের মতো কাজ করে। যেটি আপনার সত্যিকারের অবস্থান লুকিয়ে ফেলে এবং এমন ভাব করে যেন আপনি আরেকটি নেটওয়ার্কে আছেন। বিভিন্ন ডিভাইসের জন্য অনেক রকমের সফটওয়্যার পাওয়া যায়। যখন ভিপিএন সক্রিয় হবে, আপনি নিজেই ঠিক করে নিতে পারবেন, আপনার অবস্থান কোথায় দেখাতে চান। ভিপিএন সেবার জন্য অনেকেই জেনমেট, সাইবারঘোস্ট বা এক্সপ্রেসভিপিএন (ZenMate, CyberGhost or ExpressVPN) ব্যবহার করতে বলেন। তবে, মনে রাখবেন বেশিরভাগ ভিপিএন সেবা টাকা দিয়ে কিনতে হয়। এই অনলাইন ব্রাউজিং পদ্ধতিতেও অর্থ পরিশোধের বিবরণগুলো সংরক্ষণ করা হয় এবং এর মাধ্যমে আপনি কিছু চিহ্ন বা ছাপ রেখে যান। একটি বিকল্প, তবে আরও জটিল, বিকল্প হলো আপনার নিজস্ব ভিপিএন সেট আপ করা।

ভিপিএন সেবা কোথায় পাবেন, তা নিয়ে আরো তথ্য আছে এখানে: zenmate.com, cyberghostvpn.com ev expressvpn.com| এটি কিভাবে কাজ করে, তা দেখতে পারেন এখানে:

একটি সুপরিচিত প্রক্সি নেটওয়ার্ক হলো টর (দ্য অনিয়ন রাউটার)। টর ব্রাউজার ব্যবহার করার সময়, আপনি আসলে আরেকটি আইপি ঠিকানার মাধ্যমে সার্ফ করে থাকেন। এটি সম্ভব হয় কারণ টর হলো এনক্রিপ্ট করা কম্পিউটার সংযোগগুলোর একটি নেটওয়ার্ক। প্রতিটি ব্যবহারকারীর কাছে এই নেটওয়ার্ক-এর অ্যাক্সেস পয়েন্ট রয়েছে। এসব সার্ভারগুলোর মধ্যে তিনটি বা তার বেশি রাউটিংয়ের পরে, একজন ব্যবহারকারী এক্সিট বা প্রস্থান পয়েন্টে পৌঁছান। এই আইপি ঠিকানাটি ওই ব্যক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহার করেন।

তবে এর অর্থ এই নয় যে আপনাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। ২০১৪ সালের নভেম্বরে এফবিআই এবং অন্যান্য ইউরোপীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো অপরাধমূলক ক্রিয়াকলাপের জন্য টর-অপব্যবহারকারী ১৭ জনকে শনাক্ত করে। তবে, এ ধরনের অভিযানগুলো খুবই নিবিড় এবং ব্যয়বহুল। সুতরাং, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই জাতীয় পদ্ধতি ব্যবহার করে একজন সাধারণ নাগরিক বা সাংবাদিকের ওপর নজরদারি করবে এমন সম্ভাবনা বা ঝুঁকি সামান্যই, যদি না তারা অস্ত্র বিক্রি বা শিশু পর্নগ্রাফিতে জড়িত হন। তবে খুব সাবধান থাকতে হবে যদি আপনি এমন দেশে কাজ করেন যেখানে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা খুব কম এবং যখন তাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এমন কাজের জন্য দক্ষ হয়।

টর ব্রাউজার অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের জন্য একটি স্মার্টফোন অ্যাপ্লিকেশন হিসেবে পাওয়া যায় (Orfox and the add-on Orbot)। প্রক্সি ব্রাউজারগুলো খুঁজছেন এমন আইওএস ব্যবহারকারীদের উচিত অনিয়ন ব্রাউজার-এ প্রবেশ করা।