সঠিক সূত্র বা নথি খুঁজে পাওয়াটা সব সময় এতো সাদামাটা হয় না।

মেথোডোলোজি বা পদ্ধতি শব্দটি শুনলেই মনে হতে পারে বিষয়টি একাডেমিক গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত। কিন্তু এর অর্থ আসলে, আপনি কিভাবে আপনার অনুসন্ধান পরিচালনা করবেন তা নির্ধারণ করা। আপনি হয়তো এমন অনেক পদ্ধতি অবলম্বন করবেন: নথিপত্র বিশ্লেষণ, সরাসরি সাক্ষাৎকার, স্থান পরিদর্শন। আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে কোন সূত্রগুলো ব্যবহার করবেন, প্রতিটির জন্য কতটা সময় ব্যয় করবেন, তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ে (ক্রস চেক) কী প্রক্রিয়া অবলম্বন করবেন। এই কাজ করতে গিয়ে কী ধরনের বাধা আসতে পারে, সে ব্যাপারে পরিকল্পনা করে নেওয়াও এই প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যেমন প্রতিবেদনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি নাও পেতে পারেন কিংবা সূত্র হিসেবে একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি আপনার সঙ্গে কথা বলতে রাজি নাও হতে পারেন। এ ব্যাপারে আপনার বিকল্প পরিকল্পনা কী হবে? আপনি কীভাবে বিকল্প প্রমাণ যোগাড় করবেন, যা সমমূল্যের প্রমাণ হিসাবে গণ্য হবে?

কাজের পদ্ধতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়ে যাওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব আপনাকে অনুসন্ধানের জন্য একটা সময়সূচি (টাইম লাইন) এবং বাজেট তৈরি করতে হবে। সময়সূচি হলো আপনার অনুসন্ধানে কতটা সময় লাগবে, তার একটি হিসেব: আর্কাইভ, সাক্ষাৎকার, গবেষণা, ওয়েবে অনুসন্ধান এবং প্রতিবেদন লেখায় আপনার কত ঘণ্টা সময় প্রয়োজন হবে?

নানা কাজের মধ্যে আপনার সময় ব্যয়ের পাশাপাশি সময়সূচি তৈরির আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কাজ শেষ করার সময়সীমা (ডেডলাইন) এবং প্রতিযোগিতা। আপনার প্রতিবেদন যদি ইতিমধ্যে অনুমোদন পেয়ে থাকে তবে, জমা দেওয়ার সময়সীমা থেকে পিছন দিকে হিসাব করে কাজের সূচি ঠিক করুন। সাক্ষাৎকার-গবেষণার সূচি এই সময়কাঠামো মেনেই করতে হবে। অন্যদিকে, যদি প্রতিবেদনের প্রস্তাব আপনি কোনো সম্পাদকের কাছে অনুমোদনের জন্য দিয়ে থাকেন, তাহলে, কাজ শুরুর সময় উল্লেখ করুন এবং আপনার প্রতিবেদন কবে নাগাদ প্রস্তুত হবে তাও আপনাকে বলতে হবে। প্রতিবেদনের প্রস্তাব অনুমোদনের আলোচনাও এই প্রক্রিয়ার একটা অংশ। প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সম্পাদকের সঙ্গে আপনার আলোচনার জন্য এই সময়সূচির প্রয়োজন হবে।

তবে আপনার প্রতিবেদন যদি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বা বহুলআলোচিত কোনো বিষয়ে হয়, তাহলে বিষয়টি নিয়ে অন্য মিডিয়াও কাজ করবে, এমনটাই স্বাভাবিক। এর ফলে প্রতিবেদনটি দ্রুত প্রকাশের একটি বাড়তি তাগিদ তৈরি হয়। তবে, অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তাড়াহুড়া বা কোনো কিছু এড়িয়ে যাওয়া উচিত হবে না, নইলে এর ফলে আইনি ঝামেলাও হতে পারে। আপনার সামনে একটি সময়সূচি থাকলে, আপনি বুঝতে পারবেন কোন পর্যায়ে এসে আপনি স্পষ্ট ও যথার্থ কিছু প্রকাশ করতে পারেন। এমনকি অনুসন্ধান পুরোপুরি শেষ না হলেও।