অনেক দেশেই দাপ্তরিক গোপনীয়তা আইন, সন্ত্রাসদমন আইন কিংবা স্রেফ সরকারি কর্মকর্তাদের অনীহার কারণে সরকারি বা বেসরকারি খাতের নানা তথ্য জনগণের দৃষ্টির আড়ালে রয়ে যায়। সরকার কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ভর্তূকি দিচ্ছে, এনিয়ে স্বচ্ছতার দাবি জোরালো হয়ে ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৭ সালে ইউরোপের কয়েকটি দেশ তথ্য প্রকাশের দাবির কাছে নতি স্বীকার করে। তাও এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সময় লেগেছিল সাত বছর। ভর্তুকির টাকা কোন ব্যবসায় যাচ্ছে সেই তথ্য প্রকাশ করতেও, ২০০০ থেকে ২০০৭ সাল, অর্থ্যাৎ সাত বছর সময় নিয়েছে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ। এই তথ্য পেতে সেখানকার ছয়টি দেশের সাংবাদিকরা জোটবদ্ধ হয়ে আদালতে মামলা করেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল সরকারী ভর্তুকির গন্তব্য ইউরোপের জনগণকে জানানো। এই আইনি লড়াইয়ের ফলাফলটাও ছিল মহামূল্য: সরকারগুলো তথ্য প্রকাশ করতে বাধ্য হয় এবং সেখানে দেখা যায়, রাষ্ট্রীয় সেসব ভর্তূকি মূলত গিয়েছে বড় বড় শিল্পপতি আর রাজপরিবারগুলোর কয়েকজন সদস্যের পকেটে। কোটি কোটি পাউন্ড আর ইউরো ভর্তুকি দিয়ে তাঁদের এমনিতেই লাভজনক ব্যবসাকে আরো ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু ক্ষুদ্র বা টিকে থাকার সংগ্রামে মরিয়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তেমন কিছুই পায়নি।

আপনি যদি এমন কোনো দেশে থাকেন যেখানে তথ্য অধিকার আইন নেই, উল্টো পদে পদে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইনের বাধা আছে, তাহলে আপনাকে অনেক লড়াই করতে হবে। হয়তো সরকারি কর্মকর্তারা আপনাকে কোনো নথি দিতে দেরি করতে পারে। বা অবস্থা আরো খারাপ হলে, আপনাকে টাকা দিয়ে সেটি নিতে হতে পারে। টাকা ছাড়া নথি পাওয়ার আর কোনো উপায় না থাকলে আপনি কী-ইবা করতে পারেন? দীর্ঘ, কঠিন পথটা হলো তথ্য অধিকার আইনের জন্য লড়াই করা এবং সেটি ব্যবহারের মাধ্যমে তথ্য পাওয়া। আপনার দেশে যদি তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার (রাইট টু ইনফরমেশন, আরটিআই) আইন থাকে, তাহলে নিম্নোক্ত সাধারণ ধাপগুলো অনুসরণ করে তথ্য পেতে পারেন:

  • > বিষয়বস্তুর ওপর আধা সরকারি বা বিশেষ কিছু প্রকাশ করা হয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করুন এবং এমন কাউকে খুঁজে বের করুন, যিনি সংশ্লিsষ্ট নথি পেতে বা দেখতে আপনার সহায়তা করবেন।
  • > সবসময় যাচাই করে নিন, তথ্যটি কি এরই মধ্যে প্রকাশ হয়ে গেছে কি না। সীমিত আকারে বা সংক্ষিপ্ত পরিসরে প্রকাশিত সংবাদপত্রেও মাঝেমধ্যে গোপন নথিপত্রের সারাংশ বা হুবহু অংশ ছাপা হয়।
  • > সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে তথ্য অধিকার আইন ব্যবহার করুন। আপনি যদি দেখাতে পারেন যে সব ধরনের বিকল্প আপনি চেষ্টা করেছেন, তাহলে নথি পেতে আপনার দাবি আরও জোরদার হবে।
  • > আগেভাগে পরিকল্পনা করুন: আরটিআই প্রক্রিয়াটি ধীর হতে পারে, এবং এই আইনের আশ্রয় নেওয়ার মানে এটা নয় যে আপনি আগামীকালই নথি পেয়ে যাবেন। কাজেই সঠিক তথ্য কার কাছে রয়েছে, তাঁকে চিহ্নিত করুন এবং তাঁর কাছে যান।
  • > যথাযথ নথি পেতে বিষয়ের নাম বা সংখ্যাগত পরিচিতি উল্লেখ করে অনুরোধ করুন। ‘যা আছে সব দিন’- এই ধরনের আবেদন করলে অগ্রাহ্য বা দেরি করার অজুহাত পেয়ে যান কর্মকর্তারাও।
  • > আপনার অনুরোধ এবং যে জবাব পেয়েছেন, তা খুব যতেœর সঙ্গে নথিবদ্ধ করুন। সেগুলো আপনার কাজে লাগতে পারে এটি প্রমাণের জন্য যে, কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য অধিকার আইন লঙ্ঘন করছে এবং হয়তো কিছু গোপন করতে চাইছে।