কখনো কখনো আপনি হয়তো নথিপত্র পড়তে গিয়েই ‘তথ্য ফাঁসকারী’ বা হুইসেলব্লোয়ারের (অসন্তুষ্ট কর্মী, যিনি নিজের প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে তথ্য দিতে চান) সন্ধান পেয়ে যাবেন। উন্নত বিশ্বে অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সংগঠন ও সরকারি দপ্তরে অনানুষ্ঠানিক ইলেকট্রনিক বৈঠক ‘কক্ষ’ রয়েছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও তথ্য আদানপ্রদান হয়। তবে এসব সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য সরাসরি আপনার প্রতিবেদনে ব্যবহার করবেন না। আপনাকে আগে নিশ্চিত হতে হবে যে তথ্য ফাঁসকারীর অস্তিত্ব আছে বা তিনি সত্যিই কর্মরতদের একজন এবং তিনি তার দাবি প্রমাণ করতে পারবেন। তাঁর দেওয়া স্বাক্ষ্যপ্রমাণের বিষয়ে নিশ্চিত হতে সূত্রের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করার চেষ্টা করুন।

সবচেয়ে দরকারি সূত্র তারাই, যারা আপনাকে নৈতিকতার পরীক্ষায় ফেলবে না এবং আপনাকে ‘আত্মপরিচয় গোপন’ করে সেই প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনে ঢোকার ঝুঁকির মুখে ফেলবে না। প্রকৃতপক্ষে তথ্যেও গেটকিপার বা দ্বাররক্ষীরা হলেন: ব্যক্তিগত সহকারী, অভ্যর্থনা কক্ষের কর্মী এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তারা, যারা সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে আপনাকে ঢুকতে দেবেন অথবা সেখানে কাদের যাতায়াত, সে সম্পর্কে বলতে পারবেন। শুধু উচ্চপদস্থদের মনোযোগ আকর্ষণ করার চেষ্টা করে ভুল করবেন না; সবার সঙ্গে ভালো পেশাদার সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করুন। দ্বাররক্ষীরা শুধু সশরীরে প্রবেশই নয়, তথ্যও নিয়ন্ত্রণ করেন। মনে রাখতে হবে ব্যাংক, ঋণদাতা অথবা সরকারি দপ্তরের কর্মীদের মতো দ্বাররক্ষীদের চাকরির চুক্তিপত্রে গোপনীয়তা বজায় রাখার শর্তে স্বাক্ষর করতে হয় এবং তথ্য ফাঁস না করার বিষয়ে আইনগতভাবে তাঁরা বাধ্য। তুচ্ছ কারণে তাঁদের সহযোগিতা কামনা করবেন না এবং তাঁদের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক গোপন রাখুন, যাতে তাঁদের পরিচয় প্রকাশের ঝুঁকি তৈরি না হয়।

যে কোনো অনুসন্ধানে সবচেয়ে জরুরি প্রশ্নটা হলো, ‘কার কাছে তথ্যটা আছে?’ প্রায় ক্ষেত্রেই তথ্য সুরক্ষায় একাধিক দ্বাররক্ষী থাকেন। চিন্তা করুন: যদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আপনাকে নথি দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে অন্য কোনো সরকারি সংস্থা বা সংগঠনের কাছে একই নথি থাকতে পারে। যেমন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, কিম্বা স্বাস্থ্য বিষয়ক অন্য কোনো এনজিও, সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে গবেষণারত কোনো বিশ্ববিদ্যালয়, অথবা সংসদের স্বাস্থ্য বিষয়ক উপকমিটির কোনো সদস্যের কাছে নথিটি থাকতে পারে, যিনি আপনার প্রতি সহানুভূতিশীল। আপনার সূত্রগুলোর মধ্যে যদি কোনো সার্ভেয়ার থাকেন, তিনি হয়তো কোনো স্পর্শকাতর তথ্য দিতে পারবেন না। তবে তিনি বলতে পারবেন, কে কী কাজ করেন, কার গুরুত্ব কত এবং কে সিদ্ধান্ত নেন।

তথ্যভান্ডারে প্রবেশাধিকার দিতে পারেন সেই ব্যক্তি, যিনি প্রভাবশালী। যদি তাঁরা আপনাকে পছন্দ করেন, বা আপনার কাজে তাঁদের বিশ্বাস থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট অন্যদের সঙ্গে তাঁরা আপনাকে কথা বলিয়ে দিতে পারবেন। দরজা খুলে দেওয়া ব্যক্তি অর্থ্যাৎ, ডোর-ওপেনাররা হতে পারেন সম্মানিত বয়োজ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ অথবা যথেষ্ট জ্যেষ্ঠ নন তবে বিশ্বস্ত কোনো ব্যক্তি যিনি কোনো সংগঠন বা সামাজিক গোষ্ঠীর সঙ্গে আছেন। কখনো কখনো কোনো জনগোষ্ঠীর একজন প্রতিষ্ঠিত নেতাও তাঁর সম্প্রদায়ের কারো সঙ্গে যোগাযোগে সহায়তা করতে পারেন। এসব ব্যক্তিরা যখন বলেন, অন্যরা তাঁদের কথা শোনেন: ‘এই সাংবাদিক ভালো; আপনারা তাঁর সঙ্গে কথা বলতে পারেন।’ এসব ব্যক্তিকে তাঁদের ইতিহাস ঘেঁটে চিহ্নিত করুন এবং যখনই সুযোগ হয়, তাঁদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলুন।